মোবাইল ব্যাংকিংয়ে একাধিক হিসাব রাখা যাবে না

মোবাইল ব্যাংকিং
স্টাফ রিপোর্টার : মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে একজন ব্যক্তি যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি মাত্র হিসাব রাখতে পারবেন। যাদের একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব চলমান রয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। একইসঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দৈনিক ও মাসিক লেনদেনের সীমা আরও কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দেয়। গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস্ ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো গ্রাহকের একই জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড বা অন্য কোনো পরিচয়পত্রের বিপরীতে একাধিক মোবাইল হিসাব থাকলে উক্ত গ্রাহকের সাথে আলোচনা করে তার বেছে নেয়া- যেকোনো একটি মোবাইল হিসাব চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকের সাথে আলোচনা করে এরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ দুরূহ হলে, যে হিসাবটিতে সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে, তা চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুসারে, একজন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক একবারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আগে এই হার ছিল ২৫ হাজার টাকা। এখন থেকে গ্রাহক দৈনিক দুই বার এবং মাসে ১০ বার এই সেবা নিতে পারবেন, যা আগে ছিল দৈনিক তিন বার এবং মাসে ১০ বার।
একইসঙ্গে দৈনিক জমার সীমাও পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে এখন থেকে দিনে সর্বোচ্চ দুই বারে ১৫ হাজার টাকা করে পাঠানো যাবে। যা মাসে সর্বমোট ২০ বারে এক লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না। আগে দিনে পাঁচ বারে ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে সবর্বোচ্চ ২০ বারে দেড় লাখ টাকা করে জমা করা যেত। এছাড়া একটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে টাকা জমার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঐ হিসাব থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার বেশি নগদ উত্তোলন করা যাবে না।
সম্প্রতি ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমার অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তারা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারে হুন্ডি হওয়ার অভিযোগ করেন। এতে করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় লেনদেনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে হুন্ডি হ্রাসের চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল হিসাবে ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে গ্রাহককে পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হবে, যা এজেন্ট তার রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করবেন। এমনকি রেজিস্ট্রারে গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপসই সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কোনো এজেন্ট এই ধরনের নির্দেশনা সম্পন্ন না করলে বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে এজেন্টশিপ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।