ময়মনসিংহে বকেয়া বেতন ও ফ্যাক্টরী বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বকেয়া বেতন ও ফ্যাক্টরী বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

তমাল কান্তি সরকার: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার শিল্প এলাকা হবিরবাড়িতে রবিবার সকালে শ্রমিকদের না জানিয়ে ওরিয়ন নিট টেক্সটাইল ফ্যাক্টরীতে অনৈতিকভাবে মালিক পক্ষের লোকজন কর্তৃক ফ্যাক্টরীর প্রধান ফটকে তালা ঝুঁলিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে ও বকেয়া বেতনের দাবিতে মিলগেটে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভসহ অবরোধের চেষ্টা চালায় শ্রমিকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যন ও ফ্যাক্টরীর জিএম এর সাথে কথা বলার পরও কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় মিলের জিএম পালিয়ে যান।

শ্রমিকরা জানান, তারা এই ফ্যাক্টরীতে আড়াইশ শ্রমিক কর্মরত আছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এক মাসের বেতন না দিয়ে ১০ দিনের বেতন হাতে ধরিয়ে দিয়ে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেয়া হয়। এ সময় শ্রমিকদের বলা হয়,ঈদের পর ০২জুলাই রবিবার কাজে যোগদানের জন্য। রবিবার সকালে কর্মস্থলে এসে শ্রমিকরা মিলের প্রধান ফটকে তালা ঝুঁলানো দেখেন । এ সময় শ্রমিকরা ফটকে তালা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গেটে থাকা লোকজন জানায়, দুই কিলোমিটার দূরে মাস্টারবাড়িতে ইউনিট-১ কাজ করতে হবে। না হলে আমাদেরকে চলে যেতে বলেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছল নিয়ে মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান করেন। শ্রমিকরা আরো জানান, তিনঘন্টা মহাসড়কে অবস্থানের পর স্থানীয় চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বাচ্চু ফ্যাক্টরীর জিএম এ্যাডমিন ইমতিয়াজ আহমেদকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং আমাদের সাথে কথা বলেন। এ সময় ফ্যাক্টরীর স্থানীয় ভাড়াটিয়া আতা ঢালী ও বাশার ঢালী নারী শ্রমিকসহ বেশ কিছু শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে কিল ঘুষি মারতে থাকে। পরে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় কোন ফয়সালা না হওয়ায় জিএম মাইক্রোবাসে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা মাইক্রোবাস ঘেড়াও করে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করে। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে মাইক্রো থেকে নেমে একটি মোটরসাইকেলে করে জি এম পালিয়ে যান। এ সময় মালিক পক্ষের ভাড়াটিয়া লোকজন লাঠি নিয়ে ধাওয়া করলে উত্তেজিত শ্রমিকরা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় জিএম এর মাইক্রোবাসের সামনের গ্লাস ভেঙ্গে দেয়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বাচ্চু জানান, মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে। মিলের জিএম এ্যাডমিন ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, শ্রমিক আইন মেনেই তাদেরকে অন্যত্র শিফট করতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের পাওনা মিটিয়ে দেয়া হবে।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিয়ে বসে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে মিল এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।