রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর কী ঘটবে?

চ্যানেল ডেস্ক : ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সেই দিন আর না থাকলেও দেশটির রাজপরিবার নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে কমবেশি আগ্রহ আছে। যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ খুব শিগগির ৯২ বছর বয়সে পা দেবেন। তাই কালক্রমে তাঁর অনিবার্য বিদায়ের কথা আলোচনায় আসছেই।

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেলে কী ঘটতে পারে? কীভাবে দায়িত্বে আসবেন তাঁর উত্তরাধিকারী? কীভাবেই বা সারা হবে আনুষ্ঠানিকতাগুলো?

এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসবে নানা বিচিত্র তথ্য। তার একটি হচ্ছে তাঁর প্রয়াণের খবর জানানো বিষয়েই। ১৯৫২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা রাজা ষষ্ঠ জর্জ মারা যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যকে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্তিম বিদায় জানাতে হয়নি।
রানির মৃত্যুর খবরটা প্রথমে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর পর জানবেন সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা। আর তা করা হবে বিশেষ কোড ওয়ার্ড অর্থাৎ সংকেতের মাধ্যমে। রানির কোড ‘লন্ডন ব্রিজ’। তিনি মারা গেলে বিশেষ টেলিফোন লাইনে বিষয়টি জানানোর সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা বলবেন, ‘লন্ডন ব্রিজ ইজ ডাউন’।

রানির শেষ মুহূর্তটায় তাঁর জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক অধ্যাপক হিউ টমাসের পাশে থাকার কথা। তিনি তখন রানির ঘরে কে কে প্রবেশ করবেন তা নিয়ন্ত্রণ করবেন। ঠিক করবেন সাধারণ মানুষকে কী তথ্য জানানো যেতে পারে, তা-ও।

রানি মারা গেলে তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ক্রিস্টোফার গাইটের ওপর প্রধানমন্ত্রীকে খবরটা জানানোর দায়িত্ব পড়বে। লন্ডনে পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল রেসপন্স সেন্টার থেকে এ খবর যুক্তরাজ্যের বাইরে ১৫টি দেশের সরকারের কাছে পাঠানো হবে। যুক্তরাজ্যের রানিই এসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। এ ছাড়া রানির প্রভাব রয়েছে কমনওয়েলথভুক্ত এমন ৩৬টি দেশেও খবরটি পাঠানো হবে। এসব দেশের প্রধানমন্ত্রী, গভর্নর জেনারেল ও রাষ্ট্রদূতেরা শোক প্রকাশ করতে বাঁ বাহুতে সোয়া তিন ইঞ্চি প্রশস্ত কালো বন্ধনী পরবেন।

সাধারণ মানুষ খবরটি পাবে সংবাদমাধ্যমকে জানানোর পর। বাকিংহাম প্যালেসের ফটকে কালো নোটিশ টাঙানো হবে। প্রাসাদের ওয়েবসাইটটিও একই রং ধারণ করবে। মৃত্যুসংবাদ প্রচার করবে বিবিসি।

পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অধিবেশন ডাকা হবে, সাধারণ মানুষকে কাজ থেকে দ্রুত ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠানো হবে। আকাশপথে উড়োজাহাজের পাইলটরা যাত্রীদের সংবাদটি জানাবেন।

রানির মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স চার্লস রাজা হবেন। চার্লস ও নতুন রানি ক্যামিলা যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সফর করবেন। এর সবকিছু সেই ১৯৬০-এর দশক থেকেই নির্ধারিত। রানির প্রয়াণ মাত্র প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে যাবে।