রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কুটনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে : মির্জা ফখরুল

রেজাউল সরকার (আঁধার) : রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কুটনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে অতি দ্রুত জাতীয় কনভেনশন ডাকার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন টিম তৈরি করে বিভিন্ন দেশে সফরে যান, জাতিসংঘে যান, তাদেরকে ওই সমস্যা সমাধানে বাধ্য করেন। যে দেশগুলো মায়ানমারকে সমর্থন (দিচ্ছে চীন, ভারত, রাশিয়া) তাদের কাছেও অবিলম্বে যাওয়া উচিত এবং তাদেরকে বোঝানো উচিত। এ সমস্যা সমাধান করতে মায়ানমারে গণহত্যা বন্ধ করতে হবে এবং তাদেরকে সেদেশে  ফিরিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, আজকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে একটি সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
তিনি শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাঘটিয়া ওয়েলফেয়ার মাঠে বিএনপির প্রয়াত নেতা আসম হান্নান শাহ’র স্মরণসভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওইসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, হান্নান শাহ প্রকৃতপক্ষেই ছিলেন একজন জাতীয় নেতা। আমাদের কাছে অনূকরনীয় ব্যক্তিত্ব। আজ তার মত সাহসী মানুষের দরকার। যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে পারেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা নির্বাচন চাই। আমাদের পরিস্কার কথা আমরা নির্বাচন চাই, নির্বাচন করতে চাই। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেজন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ, সমান অধিকার দিতে হবে। আমরা বলেছি, নির্বাচনের আগে প্রধানমমন্ত্রী আপনি ক্ষমতা ছেড়ে দিন, ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটা নিরপেক্ষ লোকের হাতে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেন। নির্বাচন কমিশনকে পরিস্কার করে বলেছি, যে আপনারা নিরপেক্ষভাবে দেশের মানুষ আপনাদেরকে যে ক্ষমতা দিয়েছে সংবিধানের মাধ্যমে সেই ক্ষমতানুযায়ি নির্বাচন পরিচালনা করবেন। কারো কথা শুনবেন না। প্রয়োজনে আপনি সেই সমস্ত মন্ত্রণালয়গুলো আপনার হাতে নিয়ে নেবেন, যেই সমস্ত মন্ত্রণালয়গুলোতে কারচুপি করার সম্ভাবনা থাকে অথবা প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
ফখরুল বলেন, ষড়যন্ত্র হচ্ছে তারেক রহমানকে নির্বাসিত রেখে আর দেশে ফিরতে না দেয়ার। ষড়যন্ত্র চলছে বিএনপিকে ধ্বংস করে দেয়ার, নির্মূল করে দেয়ার । ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আর ফিরিয়ে না দেয়ার। যতদিন দেশনেত্রী আছেন, তারেক রহমান আছেন, যতদিন এ দেশে একজনও দেশ প্রেমিক মানুষ আছে ততদিন এ ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না। আমরা জানি আপনারা এ ষড়যন্ত্র  করছেন, চক্রান্ত করছেন, বিএনপি যেন নির্বাচনে আসতে না পারে। কারণ আপনারা জানেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলেই আপনাদের ভরাডুবি হবে। বিএনপি যদি নির্বাচন করে তাহলে আওয়ামীলীগের ভাগ্যে ২৫টি আসনও জুটবে না। সেজন্য যতরকম কারসাজি করা, কারচুপি ও চক্রান্ত দরকার আপনারা তা করছেন। আমরা সবসময় বলেছি,আমরা সংঘাত চাই না, সংলাপ চাই, সমঝোতা চাই। যে অপকর্ম আপনার করেছেন, কেয়ার টেকার সরকার বাতিল করে দিয়ে। যে অপকর্ম আপনার করেছেন ২০১৪সালের একতরফা নির্বাচন করে ১৫৪জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করে সেই অপকর্ম ভুলে যান। আলাপ আলোচনা করেন, আমরা একটা পথ বের করি। যে পথ দিয়ে আমরা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে একটা নির্বাচন করতে পারি। যে নির্বাচনে সবাই অংশ গ্রহণ করবে, তাতে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন আমাদের ডেকেছিল । আমরা সেখানে গিয়ে আমাদের প্রস্তাবগুলো দিয়ে এসেছি। আমাদের প্রস্তাবগুলো বিএনপির জন্য নয়। এ প্রস্তাব বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। এ প্রস্তাব বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা বলেছি, নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকার দিতে হবে। যে সরকার নিরপেক্ষভাবে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করে নির্বাচন কমিশনকে সহযযোগিতা করবে। আমরা বলেছি এখন যে পার্লামেন্ট আছে যেটা তারা নিজেরাই তৈরি কেেছ। জনগণ ভোট দেয়নি। সেই পার্লামেন্টকে ভেঙ্গে দিতে হবে পরবর্তী নির্বাচনের আগে। যদি তা ভেঙ্গে না দেয়া যায় তা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। আমরা বলেছি সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কারণ সেনাবহিনী মোতায়েন থাকলে ওই যারা ভোট ডাকাতি করে নিয়ে যায়, যারা ভোট ডাকাতি করে, যারা জোর করে ফলাফল ঘোষণা করে, যারা লাঠি-সোটা, বন্দুক-পিস্তল নিয়ে জনগণকে ভোট দিতে বাধা দেয়, তারা সেটা করতে পারবে না। কিন্তু তারা (আওয়ামীলীগ) তাতে রাজি নয়। তারা বলে আমরা ২০১৪-তে যেভাবে নর্বিাচন করেছি, তেমন নির্বাচন করবে। এ দেশের জনগণ ২০১৪সালের মত নির্বাচন হতে দেবে না।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনও আপোষ করেন না, ভয় পান না।তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য, তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য, তাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ৩৯টি মামলা দেয়া হয়েছে দেশ নেত্রীর বিরুদ্ধে। তিনি যাখন চিকিৎসার জন্র বিদেশে ছিলেন তখন আওয়ামীলীগের নেতারা বার বার করে বলার চেষ্টা করেছেন, দেশনেত্রী আর দেশে ফিরবেন না। তারা ভুলে গেছেন নয় বছর  যেই নেত্রী সংগ্রাম করেছিলেন এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ১/১১ এর অসাংবিাধানিক, অবৈধ সরকার পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। সেইনেত্রী কোনদিন পালিয়ে যেতে পারেননা, আপোষ করতে পারেননা। তিনি বীরদর্পে ফিরে এসেছেন দেশের মাটিতে। আমাদের বিপদ আরো ঘনীভ’ত হচ্ছে। একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব অন্যদিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র।
কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন হান্নান শাহর ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও শ্যামা ওবায়েদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, হুমায়ুন কবির খান, মিজানুর রহমান, মো. মুজিবুর রহমান ও মাজহারুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান পেরা, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো, সোহরাব উদ্দিন  প্রমূখ।