লাউ চাষে বদলে গেছে আলাল উদ্দিনের ভাগ্য

লাউ চাষ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ধানসহ অন্যান্য শস্য চাষ করে পর পর কয়েক বছর লোকসান গুণতে হয় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের কিসামত চড়িতাবাড়ি গ্রামের আলাল উদ্দিনকে।

কমলাবাড়ি এলাকাটি তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় শুধু আলালই নন, এখানকার প্রায় সব চাষিকেই লোকসান গুণতে হতো একটা সময়।

এমন অবস্থায় কেউ কেউ সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় অনেকেই এখন সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ। এভাবে সবজি চাষির সংখ্যা বেড়ে সবজি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে কমলাবাড়ি।

অনেকের মতো আলালও কয়েক বছর ধরে লাউ চাষ করছেন। চাহিদা থাকায় লাউ চাষে বেশ মুনাফা অর্জন করেছেন তিনি।

চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজির সঙ্গে ৬০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছেন আলাল। সাড়ে তিন মাসে বিক্রির উপযোগী হয় তার লাউ। এ সময়ের মধ্যে দেড় মাস পরিচর্যা করতে হয়। আর দুই মাস ধরে চলে লাউ সংগ্রহ ও বিক্রি।
লাউ চাষে খরচ কম উল্লেখ করে চাষি আলাল বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, জমি তৈরি করে বীজ লাগানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই চারা গঁজিয়ে যায়। এরপর পরিচর্যা, পানি, সার ও লাউয়ে লতা বিস্তারের জন্য মাচা দিলেই দেড় মাস পর ফুল-ফল আসে।

গেল দেড় মাস ধরে প্রতিদিন ৮০/১০০টি করে লাউ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিটি লাউ ২০/২৫ টাকা করে ক্ষেতেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। লাউ বিক্রি চলবে আরো প্রায় মাস খানেক।

৬০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করতে তার খরচ পড়েছে মাত্র ছয়-সাত হাজার টাকা। এবার লাউ বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করার আশা করছেন আলাল উদ্দিন।

লাউ বিক্রির টাকায় তার ছেলে-মেয়েরা অনার্সে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। মাত্র তিন বছরেই কুড়ে ঘরের স্থলে তৈরি করেছেন দালান।

শুধু আলালের প্রতিবেশী সোলেমান আলী ৩০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করে এ পর্যন্ত মুনাফা পেয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। আরো ২০ হাজার আয় করার আশা করছেন তিনি।

বর্তমানে পুরো কমলাবাড়ি, ভেলাবাড়ি, দূর্গাপুর, মোঘলহাট এলাকার লাউ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দখল করেছে রাজধানীর কাওরান বাজারসহ সারা দেশের সবজি বাজার। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ট্রাকে ট্রাকে এ অঞ্চলের লাউসহ বিভিন্ন সবজি চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশে।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, কৃষি বিভাগের নির্দেশনা আর চাষিদের পরিশ্রমে চলতি মৌসুমে লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে এবার। লাউয়ের চাহিদা থাকায় চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। সবজি সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।