শীতলক্ষ্যা থেকে উদ্ধারকৃত গাড়ির মালিক রীনা বেগম!

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া শীতলক্ষ্যায় মাছ ধরতে গিয়ে পাওয়া গেছে বিলাসবহুল প্রাডো জীপ গাড়ি। কিন্তু এতো দামি গাড়ি শীতলক্ষ্যায় আসলো কী করে? এ প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া না গেলেও অনুমান করা হচ্ছে, অজ্ঞাত বড়সড় কোনো অপরাধ সংঘটনের সাক্ষ্য এই গাড়ি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের সূত্র ধরে ঢাকার মিরপুর থানা এলাকার একটি ঠিকানা পাওয়া গেছে। রীনা বেগম নামে ওই নারীর বাসা ২/এইচ, ৯/১৪। কিন্তু ওই নামে ওই বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান কাপাসিয়া থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক।

তিনি জানান, নদী থেকে উদ্ধার করা গাড়িতে লাগানো নম্বর প্লেট (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-২০২৯) বিআরটিএ এর মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এ নম্বরটি ঢাকার মিরপুরের রিনা বেগম, পিতা আবদুর রব, ২/এইচ, বাসা ৯/১৪ নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত।গাড়ির ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। সবশেষ ১৯৯৯ সালের ১৩ জুলাই গাড়ির টেক্স টোকেন করা হয়।

কিন্ত পুলিশ উল্লেখিত ঠিকানায় এ নামের কাউকে পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ীটি ফেলে দেয়ার সময় তাতে ভূয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হতে পারে। এতে রহস্য আরও ঘনিভূত হয়েছে।

ওসি বলেন, কাপাসিয়া থানায় গাড়ি উদ্ধার সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।জিডিটি করেন থানার এস আই দুলাল মিয়া। সাধারণ ডায়রিতে পরিত্যাক্ত অবস্থায় জীপটি পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইঞ্জিনের সাথে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এর কোনো রকম ভিন্নতা আছে কিনা তাও আমরা দেখছি। যদি কোনো রকম ভিন্নতা থাকে যাচাই-বাছাইয়ের পর এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, গাড়ী উদ্ধারের পর এনবিআরের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা তাদের ইঞ্জিন নাম্বার দিয়েছি।

গাড়ি উদ্ধারের বিষয়ে দায়িত্বে নিয়োজিত থানার এস আই দুলাল মিয়া জানান, গাড়ির চেসিস নম্বর আর জেট জে ৯৫-০০৩১৯৬০ ইঞ্জিন নম্বর পাওয়ার জন্য বিকাল পর্যন্ত মেকানিক এনে চেষ্টা চলছে। তবে শুক্রবার বন্ধের দিন থাকায় সরকারী দফতরের সকল জায়গায় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। অফিস খোলা হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।

এস আই দুলাল মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন মাছ ধরার জন্য নদীতে জাল দিয়ে ঘের তৈরী করে। দুপুরে ঘের দেখতে গিয়ে জীপটি দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে শিকল লাগিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় জীপটি পানি থেকে উঠানো হয়। গাড়ির গ্লাসগুলো অক্ষত, তবে কিছু কিছু জায়গায় কাদা লেগে আছে। আমি নিজে বাদী হয়ে এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছি।

এদিকে, গাড়িটি উদ্ধারের পর ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও খোঁজ নিতে আসেনি কেউ। তবে এক নজর দেখার জন্য নানা শ্রেণীর মানুষ থানায় ভিড় করছেন। ছবিও তুলছেন। শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত কেউ খোঁজ করতে আসেনি। পুলিশ খোঁজ নিয়েও এসময়ের মধ্যে কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সাথে শনিবার যোগাযোগের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাড়িতে চাবি লাগানো ছিল। পানিতে ডুবে জীপটির বিভিন্ন অংশে মরিচা পড়েছে। তবে গাড়ীর রং অনেকটাই সাদা। গাড়িটির পেছনে এক্সট্রা চাকাও রয়েছে। নিচের চারটি চাকার মধ্যে তিনটি চাকার মধ্যে হাওয়া রয়েছে। দুই পাশের জানালার গ্লাসগুলো নামানো ছিল। তবে এর নাম্বার প্লেটে লেখা ছিল ঢাকা মেট্রো ঘ ১১-২০২৯।

প্রসঙ্গত, এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে এবং সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া শীতলক্ষ্যা (বানার) নদী থেকে একটি প্রাডো জীপ উদ্ধার করে পুলিশ।

সরেজমিনে কাপাসিয়া থানায় ঢুকতেই বাম পাশে গাড়িটি দেখা গেছে। থানার নির্মাণাধীন ভবনের রডের কাজ করছেন চাঁদপুরের রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গাড়ির খোঁজ নিতে সারাদিন কাউকে আসতে দেখিনি।

কৌতুহল নিয়ে সাংবাদিকদের দিকে ছুটে আসা রিকশাচালক উজ্জল মিয়া বলেন, উদ্ধার করা গাড়ির খোঁজ-খবর নিতে কাউকে আসতে দেখিনি। কেউ কেউ আবার গাড়িটি দেখে মোবাইল ফোনে ছবি উঠিয়ে আবার চলে যাচ্ছে।

থানা গেটের সামনের পানের দোকানদার মো. তারেক মিয়া বলেন, গাড়িটি ঢাকার একজন মহিলার বলে মানুষকে বলতে শুনেছি। অনেককে গাড়ির ব্যাপারে কিছু জানার জন্য বলা হলে তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সাংবাদিকদের কাছেও জানার জন্য পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

এ ব্যাপারে ওসি আবু বকর সিদ্দিক বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, কোটি টাকা মূল্যের প্রাডো মডেলের একটি গাড়ি নদীতে পাওয়ায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ফোন দিয়ে জানতে চাচ্ছে গাড়িটি আসলে কার। তবে তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কিছুই বলা যাবে না।