শুরুর মতো শেষটা হলো না বাংলাদেশের

চ্যানেল ডেস্ক: শুরুর মতো শেষটা হলো না বাংলাদেশের। না ইনিংসের, না ম্যাচের। বাংলাদেশের বাইরে তাই আরও একবার অধরা থেকে গেল নিউজিল্যান্ড দল। ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে কাল ১৫ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের হার মেনে নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

২৫৭ রান জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তারপরও বাংলাদেশের যা একটু সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল রস টেলরের আউটের পর। ৩১তম ওভার চলছিল। ৪ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের রান ১৪৭। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে নিল ব্রুম আর জিমি নিশামের ৮০ রানের জুটি ম্যাচটাকে পুরোপুরিই নিয়ে যায় বাংলাদেশের নাগালের বাইরে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে যা একটু বাধার দেয়াল তোলার চেষ্টা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু তিনি একা কী করবেন! রুবেল হোসেন ২ উইকেট পেলেও কিউইদের চেপে ধরার মতো ধার ছিল না মোস্তাফিজ ছাড়া কারও বোলিংয়েই।

অথচ ম্যাচের শুরুটা যে রকম ছিল, তাতে নিউজিল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ভালো সুযোগই ছিল। ১৫ ওভার পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকারের ওপেনিং জুটি। দুজনের মিলিত সংগ্রহ ৭২-কে ভিত বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসটা হতে পারত আরও বড়। তিন শ না হোক, সেটার কাছাকাছি যাওয়াই ছিল প্রত্যাশিত।

৪০ ওভার পর্যন্ত সে সম্ভাবনা ছিলও। ৫ উইকেটে ১৯০ রান। এখনকার ক্রিকেটে শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেট হাতে থাকলে ৯০-১০০ রান হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এই সময়ে বাংলাদেশ দলের স্কোরবোর্ডে যোগ হলো মাত্র ৬৭ রান, পড়ে গেল ৪ উইকেট! শেষ ওভারেই পড়েছে তিনটি।
হামিশ বেনেটের প্রথম বলে ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। বলটা বাতাসে না ভেসে শর্ট ফাইন লেগের আকাশ থেকেই নিচে নেমে এসে খুঁজে নিল সেথ র্যা ন্সের হাত। পরের বলে মেহেদী হাসান মিরাজও র্যা ন্সের হাতেই ক্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দেন বেনেটকে। মাশরাফি বিন মুর্তজা সে সুযোগ নস্যাৎ করে দিলেও রানআউট হয়ে যান পঞ্চম বলে।

আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত মোসাদ্দেকের রান বাড়ানোর চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। চার বাউন্ডারিতে ৪১ বলে ৪১ করেছেন, ১৮১ রানে মুশফিকের বিদায়ের পর ৬১ রানের জুটির অংশীদার হয়েছেন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে। এর আগে সৌম্য-মুশফিক এবং মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ জুটি দুটিও ভালো জমে উঠেছিল। তিনজনই ফিফটি পেয়েছেন। র্যা ন্সের বলে মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে ইনিংসের একমাত্র ছক্কা। তবে সেসবে হাততালি দেওয়ার চেয়ে সম্ভবত আফসোসই বেশি করেছেন ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দুটি দেশের প্রথম ম্যাচ দেখতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সাব্বির, সাকিব না হয় থিতু হওয়ার আগেই আউট, অন্যরা যে উইকেটে সেঁটে গিয়েও খেলে আসতে পারেননি বড় ইনিংস!

মোসাদ্দেক যখন আউট হয়েছেন, তখন দ্রুত রান তোলার চাপ ছিল। সে তুলনায় তামিম, সৌম্য, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ বুঝে খেলার সময় পেয়েছিলেন। তবু তাঁরাই বিলিয়ে দিয়ে এলেন উইকেট। তামিমের কাট ডিপ কাভারে দাঁড়ানো মানরো বেশ আরামে ধরে ফেললেন। ইশ সোধির লেগ স্পিনে সুইপ করতে গিয়ে ঠিকভাবে বল খুঁজে না পাওয়া সৌম্য ক্যাচ তুলেছেন শর্ট মিড উইকেটে। তবে মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ দুটির জন্য বাড়তি কৃতিত্ব পাবেন রনকি ও র্যা ন্স। বিশেষ করে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচটি। শর্ট ফাইন লেগ থেকে অনেকটা পেছনে দৌড়ে গিয়ে যেভাবে সেটি নিলেন, র্যা ন্স নিজেও তা ভাবতে পেরেছিলেন কি না সন্দেহ।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান এবং যথারীতি কাটারে। ওপেনার রনকি ফ্লিক করতে গিয়ে দেখেন বল উঠে গেছে আকাশে। মাহমুদউল্লাহ অনায়াসেই নিয়েছেন সেই ক্যাচ। পরে টেলরের উইকেটটিও নেওয়া মোস্তাফিজই যা একটু ভুগিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের। তবে ২৫৭ রানকে জয়ের মালা পরাতে দরকার ছিল অন্য বোলারদেরও জ্বলে ওঠা। কিন্তু দিনটি যে কোনো দিক দিয়েই বাংলাদেশের ছিল না! না ব্যাটিংয়ে, না বোলিংয়ে।

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৫৭/৯
নিউজিল্যান্ড: ৪৭.৩ ওভারে ২৫৮/৬
ফল: নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী