শ্রীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে ডিবি পুলিশকে মারধর

শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে মো: আকতার হোসেন:
শ্রীপুরে মুড়ি তৈরির কারখানায় মালিকের কাছে টাকা দাবি করায় ডিবি পুলিশকে মারধর করেছে স্থানীয় জনতা । আজ ২৫ জানুয়ারী বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌর এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন মাওনা চৌরাস্তার আল আমিন ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ লি: কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ডিবি পুলিশের ব্যবহৃত নাম্বারবিহীন মাইক্রোবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে মাইক্রোবাসের আগুন নেভায়।

ডিবি পুলিশের চাঁদাবাজী ও হয়রানি বন্ধের দাবীতে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। প্রায় ১ ঘন্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ছিল। এতে মহাসড়কের দু’পাশে অন্তত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

আল আমিন মুড়ি কারখানার মালিক কালাম ও আল মদীনা কারখানার মালিক ইকবাল বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, গত সোমবার গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই শরীফের নেতৃত্বে একদল ডিবি পুলিশ মাওনা চৌরাস্তা এলাকা আল মদীনা মুড়ির কারখানায় গিয়ে কারখানা মালিক ইকবালকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আটক করে তার কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা নিয়ে চলে যায়।

বুধবার বিকেলে ডিবি পুলিশের এসআই খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের কথিত সোর্স রাসেল সহকারে আল আমিন ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ লি: কারখানায় গিয়ে কারখানার মালিক কালামকে আটক করে ৫ লাখ টাকা দাবী করে। এ নিয়ে কারখানার মালিক ও ডিবি’র সোর্সের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হলে আশপাশের লোকজনের মাঝে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের সোর্সকে আটক করে বেঁধে গণধোলাই দেয়। এসময় পুলিশ সোর্সকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা এসআই খায়রুলসহ তার সঙ্গে থাকা ডিবি পুলিশের সদস্যকে বেধড়ক মারপিট করে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ডিবি পুলিশের হয়রানিতে মাওনার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। প্রতিদিন ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে নয়তো বাসায় অবৈধ গ্যাসলাইন রয়েছে এমন ঠুনকো অভিযোগে সাধারণ মানুষকে আটক এবং হয়রানির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। এভাবে গত ৪-৫ মাসে অন্তত ৫০০ লোককে আটক করে হয়রানি করেছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ব্যবসায়ীরা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছেন।
ডিবি পুলিশের ওসি আমির হোসেন জানান, আসামি গ্রেফতার করতে গেলে জনতা ডিবি পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশ ও গাজীপুর ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে ১ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল এএসপি) তোফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিকদের জানান, ডিবি পুলিশের কোনো সদস্য অন্যায় কাজে জড়িত প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় তিনি মাইকে জনতার উদ্দেশ্যে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। পরে মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।