শ্রীপুরে ফুলকপি চাষে স্বপ্ন পূরণের আশা

ফুলকপি

শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি: শীতের সবজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কপি।শ্রীপুরে শীতের সবজি হিসেবে ফুল কপির বাম্পার ফলন হয়েছে ।বর্তমান বাজারে কপির দাম ভালো থাকায় কৃষক বেশ লাভবান হচ্ছেন ।তাদের মুখে ফোটে উঠেছে হাসির ঝিলিক ।

কপি চাষ করে আশায় বুক বেঁধেছেন শ্রীপুর উপজেলার বেশ কিছু চাষি তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মুলাইদ গ্রামের আদর্শ কৃষক সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলাম শ্রীপুর উপজেলার এম সি বাজার হাজী ছোট কলিম স্কুল সংলগ্ন এলাকার মুলাইদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১৩ বছর ধরে কপি চাষ করে যাচ্ছেন। প্রতি বছরের ন্যায় এবছর ও তিনি প্রায় ৪বিঘা জমিতে অর্থাৎ এক একর চল্লিশ শতক জমিতে তিন প্রকারের কপি চাষ করেছেন। বাধা কপি, ফুলকপি অপরটি চায়না ফুলকপি যা (বরকুল) নামে পরিচিত। এতে তার খরচ হয়েছে ৮০ হাজার থেকে ৯০হাজার টাকা। সিরাজুল ইসলাম আশা করছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর যে ফলন হয়েছে এতে তার দুই লক্ষাধিক টাকা আয় হতে পারে ।সিরাজুল ইসলাম ঢাকার সিদ্দিক বাজার থেকে ৭হাজার ৫শত টাকার বীজ ক্রয় করেন ।এতে ফুল কপির চারা ৮ হাজার ও বাধা কপির চারা ৪ হাজার এবং চায়না ফুলকপি(বরকুল) ২ হাজার রোপণ করেছেন ।

আদর্শ কৃষক সিরাজুল ইসলাম আশা করছেন আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তার ক্ষেতের ফুলকপি বাজার জাত করতে পারবেন। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মন ফুল কপির দাম ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনি আশা করছেন রোগ বালাই না হলে চার বিঘা জমিতে কপি চাষ করে তার যে খরচ হয়েছে, খরচ উঠিয়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হতে পারে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে সকল কৃষকরাই ফুলকপি বাজারজাত করার কাজে কেউবা আবার পরিচর্চাও কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। বাজারেও ফুলকপির দাম ভাল থাকায় শ্রীপুরের কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক বইছে। অনুকুল আবহাওয়া ও বীজের দাম সহজ লভ্যতার কারণে এবং সঠিক পরিচর্চার ফলে শ্রীপুর উপজেলায় ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ফুলকপি এখন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। আদর্শ কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, চাষ করতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের আবু সাইদ ভাইকে ফোন করে পরামর্শ নেই ।সাইদ ভাই খুব ভালো মানুষ ।আমাকে তিনি সবসময় সঠিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন ।

অপরদিকে তেলিহাটি ইউপির গোদারচালা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আব্দুল খালেক প্রায় ২বিঘা জমিতে কপি চায় করেছেন । কপি চাষে যে খরচ হয়েছে তিনি আশা করছেন এ বছর খরচ মিটিয়েও লাভের মুখ দেখবেন তিনি ।

গোদারচালা গ্রামের আরেক কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, আমার দেড় বিঘা জমি এতে কপি চাষ করেছি । বিগত বছরের তুলনায় এবছ ফলন ভালো হয়েছে ।অল্প কিছু দিনের মধ্যে কপি বাজারে বিক্রি করতে পারবো ।