শ্রীপুরে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বাধা

বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বাধা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: শ্রীপুরে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বাধা, নির্ধারিত স্থানে করতে না দেয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার সময় পৌর এলাকার পশু হাসপাতালের পার্শ্বে একটি স্কুলে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও থানা পুলিশের বাধার মুখে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিজ বাসভবনে সাড়ে ১১টার সময় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক , ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ও গাজীপুর-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যশী ডা. এস.এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

 লিখিত বক্তব্যে বলেন- দেশ ও জাতি আজ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বর্তমানে স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব চরম ভাবে হুমকির সম্মুখীন।  বর্তমান সরকারের দীর্ঘ ৯ বছরের দু:শাসনে সেই গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়েছে। সমস্ত জাতির বুকে চেপে বসেছে এক নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদী শাসন। এই অনির্বাচিত সরকারের শাসনামলে বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের শাসনতো দূরের কথা, আজকে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পর্যন্ত নেই। সমস্ত দেশ আজ পরিণত হয়েছে এক সন্ত্রাসের জনপদে। যেখানে প্রতিটি মুহুর্ত কাটে গ্রেফতার, গুম-খুন আর বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের আতঙ্কে।

এই অনির্বাচিত সরকারের মদদে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে নির্মম নির্যাতন নেমে এসেছে, তা অতীতে অত্র এলাকার মানুষ কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর গণতন্ত্রের নূন্যতম শর্ত ‘ভোটাধিকার’, শুধুমাত্র এই দাবী উচ্চরন করতে যে পরিমান নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আহুত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ  ১২ই নভেম্বরের শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সমগ্র শ্রীপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে আমাদের শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির সহ শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী হানা দিয়ে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার হুলিয়া নিয়ে পলাতক জীবন যাপন করছেন। তবে কি রাজনীতি করার কারণে এই মানুষগুলো বাঁচতে পারবে না? কি তাদের অপরাধ? ‘আমার ভোট আমি দিব’ এইটুকু চাওয়ার অপরাধেই কি তারা আজ ফেরারী? চিকিৎসা পাচ্ছেন না তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্বজনেরা, অভুক্ত থাকে তাদের সন্তানেরা, যেতে পারে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে। বাড়ী বাড়ী সকল পুলিশী হয়রানী বন্ধ করতে হবে। বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আমাদের  জাতীয় নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। জনগনের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবশ্যই নিদলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দিতে হবে। আগামী দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী এলাকা গাজীপুর-৩ আসন দূর্নীতি মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সকল স্তরের জনগনের সহযোগীতার আশা করেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।