শ্রীপুরে বিলুপ্তের পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

ঢেঁকি

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ আমরা জাতি হিসেবে বাঙ্গালী।কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেকি এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে।এখন আর আগের মত ঢেঁকিতে ধান বানতে দেখা যায় না ।সাধারণত গ্রামের গৃহবধূরাই ঢেঁকি চালণা করে থাকেন।

শ্রীপুর উপজেলার গোধারচালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের সামসুদ্দিনের বাড়ীতে গিয়ে এমনি দৃশ্য চোখে পড়ে।

গত ২৫ শে ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সামসুদ্দিনের স্ত্রী সাজেদা খাতুন(৪৫) ও তার পুত্র বউ কামরূন্নাহার (২৬) ঢেঁকিতে পিঠা তৈরির কাজে ব্যাস্ত ।

সাজেদা খাতুন বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, ঢেঁকি আমাদের শাশ্বত কৃষি নির্ভর গ্রামীণ জনপদে দরকারী ছিল এক সময় ।তবে এখন যান্ত্রিক যুগের আধুনিকতায় মানুষ স্বল্প সময়ে ও শ্রমে দ্রুত আধুনিক ও নতুন নতুন প্রযুক্তির কারণে অতীতের ঢেঁকির মত ঐতিহ্যবাহী অনেক অনেক জিনিস এখন বিলুপ্ত প্রায়।যার ফলে আমাদের অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য সমাজ সংস্কিৃতির অংশ হিসেবে ঢেঁকির ব্যবহার দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে ।

তিনি আরো বলেন, আগেরকার যুগের গ্রামের প্রত্যেক গৃহস্থ বাড়িতে ধানবানা ও চালের গুড়া কিংবা চিড়া কোটার জন্য ঢেঁকির ব্যবহার হতো। তখনকার সময়ে ঢেঁকি ছাটা চাউলের কদর ছিল সমাজে খুব বেশি।এ চাউলের রান্না করা ভাতের মজাই ছিল আলাদা।

ঢেঁকি ছাটা চাউলে প্রচুর পরিমান ভিটামিন বিদ্যমান।তাই আজও ঢেঁকি ছাটা চাউলের চাহিদা একেবারেই  কম  নয় ।

ধান ভাঙ্গার জন্য ঢেঁকি আমাদের গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যর একটি গুরূত্বপূর্ণ জিনিস।গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশেও এর একটা বিশেষ গুরূত্ব ছিল ।এক সময় গ্রাম-গঞ্জসহ সর্বত্রই ধান ভাঙ্গা, চাউল তৈরি ,গুড়ি কোটা ,চিড়া তৈরি মসলাপাতি ভাঙ্গানো সহ বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার হতো চিরচেনা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ঢেঁকি। তখনকার সময়ে ঢেঁকি গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির সাথে উৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিল ।

ঢেঁকি দিয়ে আপনারা কি কি কাজ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাজেদা খাতুন বলেন, গ্রাম বাংলার বধুরা চালের গুড়ি দিয়ে নানা রকম আইটেমের পিঠা তৈরি করেন।এদের মধ্যে চিতলপিঠা, রূটিপিঠা ,ঝুরিপিঠা ,তালের পিঠা , পাটিসাপটা পিঠা সহ হরেক রকমের পিঠা তৈরি করেন ।আর এসব তৈরি হতো ঢেঁকি ছাটা চাউলের গুড়ি দিয়ে । কালের বিবর্তনে এসব হরেকরকমের পিঠা তৈরিতে ঢেঁকি ছাটা চাউলের গুড়া আর তেমন ব্যবহার হয় না।

সময়ের ব্যবধানে ঢেঁকি হারিয়ে গিয়ে এখন এর ব্যবহারও বিলুপ্ত হয়ে গেছ।

আগেরকার সময়ে গ্রামে বড় গৃহস্থ বাড়ীতে ঢেঁকি থাকাটা ছিল অনেকটাই সমৃদ্ধ গৃহস্থ পরিবারের পরিচয় ।

এখন কালের পরিক্রমায় আমাদের ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি বিলুপ্ত প্রায় ।তাই গ্রাম বাংলার গৃহস্থ বাড়ীতে এখন আর শোনা যায়না ঢেঁকির ছন্দময় সেইশব্দ।