শ্রীপুরে মুক্তিযোদ্ধার জমি বিক্রিতে বাধা, চিকিৎসা ব্যাহত

মুক্তিযোদ্ধা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের একাত্তরের রণাঙ্গণের মাঠ কাঁপানো বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের হটিয়ে দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনা এক মুক্তিযোদ্ধা আজ নানা রোগ-শোকে জর্জরিত। মধ্যবিত্ত পরিবারের বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুণ এক সময় দেশ রক্ষায় নিজের জীবন বাজি রেখে ঝাপিয়ে পড়লেও আজ অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য টাকা যোগাড় করতে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয় কয়েক ভূমিদস্যূ। ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অসহায়ত্বের কথা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অল রশিদ।

এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি দুটি কিডনি সম্পূর্ন নষ্ট হওয়ার পথে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে দুবার কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয়। আমার কিডনির সমস্যা জনিত কারণে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। বর্তমানে জমি বিক্রি ছাড়া আমার চিকিৎসা করার মত কোন টাকা আমার কাছে নেই।

আমার জমি বিক্রি করতে গেলে একই এলাকার হাবিবুল্লাহ্, তার দুই ছেলে শামসুল হক ও মোস্তফা পেশি শক্তি প্রয়োগ করে তাদের লালিত সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে আমার জমি বিক্রি করিতে বাধা প্রদান করে এবং আমার একমাত্র পুত্র ও পরিবার পরিজন নিয়ে আমার বসত বাড়ীতে নিরাপদে থাকতে পারছিনা।

আমার জমিতে কাজ করিতে গেলে কিংবা জমির ক্রেতা নিয়ে দেখাতে গেলে লাঠিসোঠা নিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে। আমি এই অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছি। বর্তমানে জমি বিক্রি না করতে পারলে আমার চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পরবে। ফলে চিকিৎসার অভাবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পরবে।

উল্লেখ্য, তেলিহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ: বাতেন সরকার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ একাধিক বার শালিশ বৈঠক করে আমার জমি আমাকে বিক্রি করতে ও স্থাপনা তৈরি করতে সিদ্দান্ত দিলেও তা অমান্যকরে আমার জমি বিক্রি বা স্থাপনা করতে বাধা প্রদান করে আসছে। তাদের হুমকির মুখে বর্তমানে আমি অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছি।

এব্যাপারে অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে লাইন কেটে দিয়ে আর রিসিভ করেননি।