শ্রীপুরে মৌ চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন আজিজুল হক মুন্সী

শ্রীপুরে মৌ চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন আজিজুল হক মুন্সী

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে মৌ চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন আজিজুল হক মুন্সী। পেশায় মৌচাষী তিনি। আজিজুল হক শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা । মধু বিক্রি করেই চলে আজিজুলের সংসার । তিনি প্রায় ৩২ বছর ধরে মৌমাছি নিয়ে কাজ করে আসছেন ।

তখন থেকেই তিনি সরিষা ক্ষেতে মৌচাষের চেষ্টা করেন। সরিষা ক্ষেতে মৌচাষের কথা গ্রামের সবর্ত্র ছড়িয়ে পড়লে তাকে নিয়ে ঠ্রাট্টা-বিদ্রুপ করতে শুরু করে গ্রামের লোকজন। ফসল নষ্ট হয়ে যাবে, এ কারনে অনেক কৃষক তাদের জমিতে মধুর বাক্স বসাতে দিতেন না। এ প্রসঙ্গে আজিজুল হক বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, অনেকে বাক্স নিয়ে টানা-হেঁচড়া করতেন। কেউ কেউ বাক্স বসানোর জন্য টাকা দাবী করতেন তার নিকট। ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে সেসব মানুষের ভুল ধারণা ।

মৌচাষের মাধ্যমে তার তার জীবন ও পরিবারের অভাব দূর হয়েছে। নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারছেন সামাজিক কর্মকান্ডেও। তিনি বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলা মৌচাষি সমবায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নিরাপদ সড়ক চাই-এর শ্রীপুর উপজেলা শাখার আজীবন কার্যনির্বাহী সদস্য হয়েছেন। তিনি জানান, মৌচাষে তেমন বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয় না, অল্প পুঁজিতে, স্বল্প পরিসরে এ ব্যবসা শুরু করা যায়।

শুরুটা ভালো ছিল না তার। প্রশিক্ষনের অভাবে লাভের মুখ দেখতে পাননি বেশ কয়েক বছর। পরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকা কেন্দ্র থেকে মৌচাষের ওপর ১০ দিনের প্রশিক্ষন নেন তিনি । প্রশিক্ষন শেষে সেখান থেকেই ১০ হাজার টাকা ঋন নেন। শুরু করেন সেরেনা মৌমাছির চাষ। পরে নজর দেন মেলিফেরা জাতের মৌমাছির প্রতি।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০০২ সালে প্রথম লাভের মুখ দেখেন আজিজুল। তিনি জানিয়েছেন,বাংলাদেশে কয়েক ধরনের মৌমাছি চাষ হয়। এর মধ্যে ডরসেটা জাতের মৌমাছি ঘরের কোনায় বা খোলা জায়গায় চাষ করা যায়। বর্তমানে চাষ উপযোগী তিন প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে-মেলিফেরা, ফ্লোরিয়া ও সেরেনা ।
আশপাশের আবাদি জমির তুলনায় মধুর বাক্স বসানো জমিতে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সেসব জমিতে প্রায় ২০-৩০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে। শুধু তাই নয়, মৌমাছিরা ফুলে পরাগায়ন ঘটিয়ে নানা ধরনের রবি শস্যেরও ফলন বৃদ্বি করছে। এমন চিত্র দেখে এলাকার সাধারন কৃষক আজিজুল হককে সহায়তা করছেন।আবার কেউ কেউ তার মতো পথও বেছে নিয়েছেন মৌচাষে সফলতার মুখ দেখে।এরপর থেকে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের যুবকরা বানিজ্যিকভাবে এ পেশায় আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বর্তমানে আজিজুল হকের ৩০টির বেশি মৌবাক্স রয়েছে। প্রতি বাক্স থেকে সপ্তাহে চার-পাঁচ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের উত্তম সময় অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাস। এ দুই মাসে অধিক পরিমানে মধু সংগ্রহ করা যায়। তবে সরিষা ফুলের মধু অধিক ঠান্ডায় জমাট বেঁধে যায়। এজন্য সরিষার মধুতে থাকা গ্লুকোজকে দায়ী করা হয়। তিনি লিচু, কালিজিরা ও কেওড়া ফুল থেকে ও মধু সংগ্রহ করে থাকেন।

বর্তমানে এক কেজি সরিষার মধুর দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। লিচু ফুলের মধু প্রতি কেজি ৬০০ টাকা। কালিজিরার মধু প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা। কেওড়া ফুলের মধু প্রতি কেজি ৬০০ টাকা। সব খরচ বাদে এ বছর দুই-তিন লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মূয়ীদুল হাসান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, শ্রীপুর অঞ্চলের মধু বিষমুক্ত ও নির্ভেজাল। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নই সরিষার আবাদ হয়েছে। এ অঞ্চলে মৌমাছিরা ফুলে পরাগায়ন ঘটায়। ফলে রবি শস্যের ফলন দিন দিন বাড়ছে।