শ্রীপুরে লেভেল ক্রসিংয়ে জনতার ঝুঁকিপূর্ণ পাড়াপার

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে গেইটম্যান না থাকায় শ্রীপুর উপজেলার দুটি লেভেল ক্রসিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার করছে কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয় ও কাওরাইদ সরকারী প্রাথমীক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। লেভেল ক্রসিং দুটি ঢাকা-ময়মনসিংহ রেপথের ভিটিপাড়া ও কাওরাইদ বাজারের লেভেল ক্রসিং।

জানাযাই লেভেল ক্রসিং পাড়াপারের সময় এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে এ দুটি ক্রসিংয়ে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয় ও কাওরাইদ সরকারী প্রাথমীক বিদ্যালয়ের শত শত স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন লেভেল ক্রসিয় পাড়াপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। একই চিত্র দেখা গেছে, লেভেল ক্রসিংয়ের পাশে বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং এর সাথে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। এ ছাড়া বরমী- ভিটিপাড়া সংযোগ সড়কের ওপর লেভেল ক্রসিং। শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রতিদিন হাজার হাজার জনসাধারণ, যানবাহন ভিটিপাড়া লেভেল ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করছে।

ভিটিপাড়া গ্রামের মৃত সুরত আলীর ছেলে আব্বাস ব্যবসায়ী মো: নুরুল ইসলাম (৫০) বলেন, লেভেল ক্রসিংয়ে সিগনাল বার নেই। এমনকি একজন গেইটম্যানও নেই। সর্বদা আতঙ্কের মধ্যে লেভেল ক্রসিং পার হতে হয়। বেশ কয়েকবার বালিভর্তি ট্রলি পারাপার হতে গিয়ে ট্রেনের সাথে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ভিটিপাড়া বাজারের পান দোকানী মকবুল হোসেন বলেন, এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আমরা নিরুপায়। লেভেল ক্রসিংয়ে কখন যে কোন্ দুর্ঘটনা ঘটে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। একটা গেইটম্যান ও সিগনাল বারের প্রয়োজনীয়তা আমাদের ছাড়া কেউ উপলব্ধি করে না। কিন্ত এটি স্থাপনে আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই।

কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান নাজমুল বলেন, তার বিদ্যালয়ের পাশে আরেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ দুটি শিক্সা প্রতিষ্ঠানে দুই হাজার এক’শ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিদিন নিশ্চিত ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি এসব শিশু শিক্ষার্থীরা কাওরাইদ রেলস্টেশনের পাশে লেভেল ক্রসিং দিয়ে পারাপার হয়। বেশ কিছুদিন আগে তার বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী লেভেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়। কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র কাজল জানায় খুব আতঙ্কের মধ্য দিয়ে রাস্তা পাড়াপার হতে হয়।

স্থানীয় অভিভাবক ও কাওরাইদ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো: রাজু আহমেদ বলেন, গত দু সপ্তাহ আগে লেভেল ক্রসিংয়ে একটি বালি ভর্তি ট্রাক আটকে পড়েছিল। পরে আন্ত:নগর তিস্তা এক্সপ্রেস সিগনাল দিয়ে থামিয়ে ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে কাওরাইদ বাজারের রেলস্টেশন সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংয়ে।

কাওরাইদ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, কাওরাইদ বাজারের লেভেল ক্রসিংয়ে সিগনাল বার ও গেইটম্যানের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ক্রসিংয়ে একবার ট্রেনে কাটা পড়ে ছাত্রী নিহতের জেরে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে সিগনাল সিস্টেম ভাংচুর করেছিল। সে বিষয়ও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্রীপুর রেলস্টেশনের স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো: হারুন অর রশীদ জানান, প্রতিদিন ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ১২টি ট্রেন ২৪ বার যাতায়াত করে থাকে।

কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডল বলেন, লেভেল ক্রসিংয়ের আশপাশে একটি কলেজ, একটি মাধ্যমিক, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা রয়েছে। লেভেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন দূর দূরান্তের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এ ছাড়াও এখানে একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ ও গাজীপুর জেলার বৃহত্তম একটি বাজার রয়েছে। এখানকার সকল মানুষ রেভেল ক্রসিংয়ের জন্য দিনের পর দিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত ও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।