শ্রীপুরে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বর্জন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: শ্রীপুরে শৈলাট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা পাঠদান বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে। এসময় তারা অফিস ও শ্রেণী কক্ষে তালা দিয়ে রাখে। পরে সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ২ এপ্রিল সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে এঘটনা ঘটে।

শ্রীপুর থানা পুলিশ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তথ্যমতে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ ২০১৬সালে ৩১ডিসেম্বর শূণ্য হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেও পরীক্ষা গ্রহন করেননি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ। পরে ২০১৭সালে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক পদে প্রথমবার নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহন করে পরিচালনা পর্ষদ। সে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) কামরুল হাসান। কিন্তু বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুলের মনোপূত: না হওয়ায় তাকে নিয়োগ না দিয়ে ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা গ্রহনের প্রস্তুতি গ্রহন করেন তাঁরা।

এরপর গত ২৮মার্চ পরীক্ষা গ্রহনের জন্য অংশগ্রনেচ্ছু পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রেরণ করা হয়। সেখানে পরীক্ষা গ্রহনের স্থান শৈলাট উচ্চ বিদ্যালয় ভেন্যূর নাম উল্লেখ থাকলেও পরীক্ষার পূর্বে ভেন্যূ পরিবর্তন করে গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের মুঠোফোনে ক্ষুদ্রে বার্তা প্রেরণ করা হয়। দ্বিতীয় বারের মতো এ পরীক্ষায়ও অংশগ্রহন করেন পূর্বের প্রথম স্থান অর্জন করা কামরুল হাসান। এবার তাকে দ্বিতীয় স্থান বলে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। প্রথম স্থান অর্জন করায় পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার কাচিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল শাকেরকে মনোনীত করে নিয়োগদান প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এদিকে শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা শ্রেণী ও অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে বিদ্যালয় মাঠে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য বিক্ষোভ করেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফসার উদ্দিন জানান, শূণ্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে প্রথম হওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগদান প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কিন্তু তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শিক্ষর্থীরা বিক্ষোভ করেছে। এঘটনায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত তারা নিবেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুল জানান, পূর্বে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় নিয়োগ দেয়া হয়নি। পরে ২৮মার্চ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ দান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে কেউ হয়তো আন্দোলনে নামিয়েছে। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে শ্রেণী কক্ষে ফেরত পাঠানো হয়।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজহারুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদ শির্ক্ষাথীদের শান্ত করে শ্রেণী কক্ষে ফিরিয়ে নেয়।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার কথা স্বীকার বলেন, পূর্বের পরীক্ষার প্রার্থীর প্রথম হওয়ার পরও তাকে শারিরীক ভাবে আনফিট মনে করেছে বিধায় নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়নি। পরে দ্বিতীয়বার যোগ্য প্রার্থী পাওয়ায় তাকে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে হয়তো কেউ অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।