শ্রীপুরে ৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ওই বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এছাড়া এই উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে ৩১টি। প্রতিনিয়তই শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষক নিয়োগের হদিস না থাকায় অধিকাংশ স্কুলের দাপ্তরিক ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উপজেলায় প্রাক প্রাথমিকসহ মোট শিক্ষক পদ রয়েছে ১০৫৮টি। প্রধান শিক্ষক পদ রয়েছে ১৫৭টি। এতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে প্রায় ৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সহকারী শিক্ষক পদের সংখ্যা ৯০১টি।এতে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৩১টি। মাসের পর মাস সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষক সংকটের তলানী খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, পদোন্নতি নিয়ে জটিলতার কারণে ২০০৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক ও ২০১২ সাল থেকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। যার ফলে শিক্ষক সংকটে এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়া লেখা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

২০০৯ সালের সহকারী শিক্ষকদের করা রিটের জের ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ। বার বার হাই কোর্টে রিট এর কারণে আটকে গেছে পদোন্নতি। শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোক্তভোগী ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা জানান, আমরা সকাল ৯টা থেকে পাঁচ-ছয় ঘন্টা ক্লাস নেই। তাছাড়া বিদ্যালয় বর্হিভূত রাষ্ট্রীয় কাজ যেমন-ভোটগ্রহণ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, শিশু জরিপ, আদম শুমারী সহ অফিসিয়াল নানা কাজ করে থাকি। নির্ধারিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করতে হয়। এক দিকে দাপ্তরিক কাজ আবার অন্যদিকে ক্লাস নেয়া খুব কষ্ট হয়।

শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, শিক্ষকের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি অল্প কিছু দিনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলে এসব সমস্যা থাকবে না। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা না হলে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সংকটের মধ্যে পড়বে।