শ্রীপুর থানার পাশে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

ডাকাতি

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর বাজারে অন্তি অরুন সেন শিল্পালয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। শনিবার মধ্য রাত ২টার দিকে ডাকাতেরা দোকানের তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটায়।

শিল্পালয়ের মালিক দীপক সেন। শ্রীপুর থানা থেকে দোকানের দূরত্ব আনুমানিক দু’শ গজ।

গভীর রাতে একদল ডাকাতরা ধারালো রাম দা ও অস্ত্র নিয়ে মৃত জলধর সেনের পুত্র দীপক সেনের মালিকানাধীন অন্তি অরিন স্বর্ণ শিল্পালয়ে শার্টারের তালা কেটে দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে।এসময় দোকানের তিনটি সিন্ধুক ভেঙ্গে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও ৭২ ভরি তৈরি স্বর্নসহ প্রায় ১ কোটি টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা।

ঘটনার সময় ডাকাতেরা বাজারের দু’জন প্রহরীর আব্দুল খালেক (৪৮) ও আলাল উদ্দিনকে (৬৫) হাত, পা ও মুখ বেঁধে জিম্মি করে রাখে। দোকান মালিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

প্রহরীরা জানায়, শ্রীপুর মধ্য বাজারের পশু হাসপাতাল সড়কের দু’পাশ থেকে চারজন করে আটজন লোক এসে মুহুর্তের মধ্যে তাদেরকে রাম দা দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। পরে তাদের হাত, পা ও মুখ বেঁধে রাস্তার পাশের তেঁতুল গাছের নিচে ফেলে রাখে। এসময় প্রহরীদের বাঁশি ও লাঠি নিয়ে ডাকাতেরা প্রহরীর কাজ শুরু করে।

এদিকে, ডাকাতদের আরও কমপক্ষে ১৫জন সহযোগী তালা ভেঙ্গে স্বর্নের দোকানে ঢুকে। ডাকাতেরা রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দু’ঘন্টাব্যাপী ডাকাতি করে। এসময় বাজারের অপর এক চা বিক্রেতা আব্দুল আলী (৬৫) এ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাকেও সহযোগী ডাকাতেরা হাত, পা ও মুখ বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে।

শিল্পালয়ের মালিকের ভাই সজীব সেন জানান, ডাকাতেরা এসময় দোকানের তিনটি সিন্দুক ভেঙ্গে সকল প্রকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা লুটে নেয়। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রহরীদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যায়। এসময় দোকানের মালিক দীপক সেন ঘটনা শুনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, তার ভাইয়ের কাছে এলাকার অনেক মানুষ বিশ্বাসের কারণে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার জিম্মায় রাখতো। আবার অনেকে স্বর্ণালংকার বন্ধক হিসেবে তার কাছে রেখে টাকা নিত।

শ্রীপুর বাজার ব্যবসায়ী নিরাপত্তা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমীন খান রতন ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, প্রায় দু’ঘন্টা সময়ব্যাপী তিনটি সিন্দুক ভেঙ্গে ডাকাতির এমন ঘটনা শ্রীপুর বাজারে কখনো হয়নি।

স্বর্ন ব্যবসায়ী তপন বণিক জানান, ডাকাতির ঘটনার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ডাকাতির প্রতিবাদে দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

ঘটনাস্থলের পাশের দোকানদার প্রবীন ব্যবসায়ী মেজো খলিফা জানান, ৭০ বছর ধরে এমন ঘটনা আমি দেখি নাই। এই প্রথম দেখলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের বলেন, বাজার এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত দারোগা (এসআই) মফিজুর রহমান মোল্লার অবহেলা ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ডাকাতেরা নির্বিঘ্নে ডাকাতি করে চলে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছে। পুলিশ তৎপর থাকলে থানা থেকে দু’শ গজ দূরে এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতি সম্ভব হতো না।

বাজারের টহলরত পুলিশ ডাকাতির সময় বাজারের বাইরে ছিল বলে এস আই মফিজ জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম, ওসি আসাদুজ্জামান ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব আনিছুর রহমান।

শ্রীপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পৌর মেয়র আলহাজ্ব আনিছুর রহমান জানান, এতবড় ডাকাতির ঘটনা পৌরবাসী আতংকে রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন।

শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য দাবী জানান।