সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক মাহমুদুল হাসানকে হুমকি

রেজাউল সরকার (আঁধার)গাজীপুর  : সংবাদ প্রকাশের জেরে গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিক মাহমুদুল হাসানকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে জয়দেবপুর থানায় সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি নং- ৮০৬) করছেন।
সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ-এর গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সাধারণ ডায়রী সূত্রে জানাযায় , গত ৭ জুলাই ‘সংসদ উপনেতার জামাতা ও দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা’ শিরোনামে পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক কামাল বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে ও ক্ষুদে বার্তায় আমাকে ভয়-ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এছাড়া আমার পরিচিত জনদের কাছেও মুঠোফোনে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। এঘটনার পর থেকে আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহবুব আলমকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোন সাংবাদিককে হুমকি দেয়া হবে এটা প্রশাসন অব্যশই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
হুমকির বিষয়ে গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুর হোসেন মিলন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলন ও সকল সদস্যসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই ‘সংসদ উপনেতার জামাতা ও দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা’ শিরোনামে পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজে আবু বক্কর সিদ্দিক কামাল নামে এক প্রতারক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতারক নিজেকে দুদক কর্মকর্তা, সচিব, সংসদ উপনেতার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনও কখনও শিল্পপতি বা বড় ব্যবসায়ী দাবি করে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির খুব আস্থাভাজন ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে থাকে সাধারণ মানুষের কাছে। আবার র‌্যাব দিয়ে মানুষকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার ক্ষমতা রাখেন বলে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখায়। এছাড়া এই প্রতারক তার স্ত্রীকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মেয়ে বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তার স্ত্রীও নিজেকে সাজেদা চৌধুরীর মেয়ে দাবি করেন।