সবার জীবন শান্তিময় হোক || স্বাগত ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নববর্ষ আসে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যয় নিয়ে। সব অশুভ ও অসুন্দরকে পেছনে ফেলে বৈশাখ আসে নতুনের কেতন উড়িয়ে। স্বাগত ১৪২৪ বঙ্গাব্দ।

পয়লা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। এ উৎসবের সর্বজনীনতা অসাধারণ। পৃথিবীতে প্রচলিত অধিকাংশ বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু বাংলা নববর্ষের সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গ নেই। কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করেই এর প্রচলন। পরে যুক্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্যের দেনা-পাওনার হিসাব মেটানো। এখন পয়লা বৈশাখ সব বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক আনন্দ-উৎসব। ধর্ম-সম্প্রদায়নির্বিশেষে বাংলা ভূখণ্ডের সব মানুষের প্রাণের উৎসব। আমাদের পরাধীনতার কালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই উৎসব আয়োজনে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করত। বাঙালি তার প্রতিবাদে সোচ্চার ছিল। ষাটের দশকে রমনা বটমূলে সূচিত ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়ের আন্দোলন-সংগ্রামকে বেগবান করেছে।

শুরুর দিকে পয়লা বৈশাখের উৎসব ছিল মূলত গ্রামাঞ্চলকেন্দ্রিক। শহরে-বন্দরেও সীমিত ছিল হালখাতার মধ্যে। এখন এ উৎসব শহরাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের আদলে প্রায় সর্বত্র অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। সর্বত্র দেখা যায় নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাস।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশাখের অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর প্রতিকার করতে গিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে উৎসব পালনের সময়সীমা কমিয়ে দিয়েছে। গতবারও এটা করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে গতবারের মতো এবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিধিনিষেধের এই ধারা স্থায়ী হলে বর্ষবরণের উৎসব স্বতঃস্ফূর্ততা হারাতে পারে, যা কোনোভাবেই বাঞ্ছিত নয়। গত বছর ঢাকার গুলশানে
হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার পর সাধারণ মানুষ ভীত-শঙ্কায় ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীগুলো জননিরাপত্তার নামে মানুষকে যেন-বা ঘরে বসে থাকার পরামর্শই দিতে চাইছে।

মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও উৎসব পালনের সুযোগ খর্ব না করেই তাদের নিরাপত্তা বিধান করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আমরা চাই, মানুষ নির্বিঘ্ন-নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে ১৪২৪ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিক। নতুন বছরে সবার মঙ্গল হোক। প্রীতি-ভালোবাসায় আনন্দ-উৎসবে দূর হয়ে যাক যত অশান্তি ও ভয়।

সবার জীবন শান্তিময় হোক।