সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হচ্ছে নৈতিকতা : সিমিন হোসেন রিমি এমপি

সিমিন হোসেন রিমি এমপি

কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে শামসুল হুদা লিটনঃ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী সিমিন হোসেন রিমি এমপি বলেছেন, “সাংবাদিকতা সহ সব কিছুর মূল ভিত্তি হচ্ছে নৈতিকত।নীতিহীন সাংবাদিকতাই হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা।সাংবাদিকতা হচ্চে একটি মহৎ পেশা।সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ হতে হবে। তাদেরকে পক্ষপাতহীন হতে হবে। যে দুর্নীতি করে সে সমাজ ও রাষ্ট্রের চরম শত্রু।সৎ না হলে দুর্নীতি দূর করা যাবে না ”।

তিনি ৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটি্উটের ব্যবস্থাপনায় ৩ দিন ব্যাপি সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনি ও সনদ পত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, “সাংবাদিকদের দেখার মতো দৃষ্টি, বুঝার মতো মন থাকতে হবে।সমাজের প্রতিটি বিষয়কে নিজের অন্তর চোখ দিয়ে যাচাই করতে হবে সাংবাদিকদের।সংবাদ পত্রে যা ছাপা হয় মানুষ তা ধর্মগ্রন্থের মতো বিশ্বাস করে। সাংবাদিকের ভুলের কারনে যে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা আর পূরণ করা সম্ভব হয় না। সাংবাদিকরা মানুষকে বিভ্রান্ত থেকে দূরে রাখতে পারে।সাংবাদিকতা একটি তথ্য নির্ভর পেশা।বিচারকের দাঁড়িপাল্লা সাংবাদিকদের চোখের সামনে থাকতে হবে।গুজব বাতাসের চাইতে বেশী আলোর গতিতে ছড়ায় ”।

সিমিন হোসেন রিমি এমপি আরো বলেন, “স্বাধীনতার অন্যতম কারিগর তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন হিংসা-বিদ্বেষ বিরোধী। তিনি বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী ফকির আব্দুল মান্নান সাহেবকে কাপাসিয়া এসোসিয়েশনের সভাপতির প্রস্তাব করেছিলেন। তাজউদ্দীন আহমদের প্রস্তাবেই বেশ কয়েকবার ফকির আব্দুল মান্নান কাপাসিয়া এসোসিয়েশনের সভাপতি হয়েছিলেন।আমি মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ’র করর জিয়ারত করেছি।”

তিনি কাপাসিয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমানে ভালো মানুষের ভালো থাকা যেন অনেক কষ্টকর।ভালো থাকা একটা সংগ্রাম।ভালো মানুষের সমাজে টিকে থাকা অনেক কষ্টকর।দুষ্ট মানুষেরা সমাজে টিকে থাকার জন্যে বরাবরই সংঘবদ্ধ।আপনাদের উচিত সমাজের ভালো মানুষগুলোকে সমর্থন দেয়া।”

অনুষ্ঠানে আবুল কালাম আজাদ বলেন, সবাইকে দিয়ে সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। মতলব দিয়ে দেখলে সাংবাদিকতা হবেনা। দেখার মতো দৃষ্টি বলার মতো মন থাকতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুল ইসলাম বলেন, সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হবে।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পিআইবি’র পরিচালনা বোর্ডের সদস্য স্বপন সাহার সভাপতিত্বে ও গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাসসে’র রিপোর্টার আতাউর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ,কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান লস্কর মিঠু, কাপাসিয়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আনিসুল ইসলাম, পিআইবি’র সিনিয়র প্রশিক্ষক রাফিজা রহমান, কাপাসিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সহ সভাপতি সঞ্জীব কুমার দাস, কাপাসিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন, কাপাসিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের আহবায়ক মোঃ নুরুল আমিন সিকদার প্রমূখ।

পরে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকদের মাঝে সনদ পত্র বিতরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সিমিন হোসেন রিমি।

প্রশিক্ষণে কাপাসিয়া, শ্রীপুর ও গাজীপুর সদরের ৩৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।তিনদিন ব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে, পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক রাফিজা রহমান, বাসসের সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ আতাউর রহমান।

সংবাদের ধারনা, সংবাদের বৈশিষ্ট্য,সংবাদের উপাদান, সংবাদের মূল্য, নিউজ সোর্স, সংবাদ লেখার ফর্মূলা, সাক্ষাৎকার গ্রহণের কৌশল, সাক্ষাৎকার পরিচালনা, ফিচার, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯,সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার ও সতর্কতায় সাংবাদিকদের করণীয়, স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের ভাষা, সংবাদ পত্রের প্রতিবেদন, অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট,সাংবাদিকদের আচরণ বিধি সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর সাংবাদিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্য দিয়ে তিন দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়।ঘন ঘন লোডসেডিং প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ ও আগ্রহে ছন্দ পতন ঘটাতে পারেনি। ড, প্রদীপ কুমার পান্ডের অভিজ্ঞতা ও গল্পের ছলে ছলে উচ্চমানের পান্ডিত্যময় ক্লাসে প্রশিক্ষণার্থীরা যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেছেন। প্রশিক্ষণের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয় গান, হাস্যরসাত্বক কৌতুক, অভিনয়,নৃত্য,কবিতা আবৃতি।প্রশিক্ষণ যেন গাজীপুরের নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল।