“সাংবাদিক” শব্দটি বিকৃত হয়ে “সাংঘাতিক” হয়েছে যে কারণে

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ব সংবাদ মাধ্যম।সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। প্রিন্টেড, ইলেকট্রিক কিংবা অনলাইন যাই বলি না কেন সংবাদপত্রের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেকটাই সমৃদ্ধ। প্রতিনিয়ত যেমন বেড়ে চলেছে মিডিয়া হাউস তেমনি তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সাংবাদিক বা সংবাদকর্মী। বেশির ভাগ মিডিয়া কোন প্রকার যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই সংবাদদাতা বা সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে।

এতে করে মহান এই পেশার মূল্য দিন দিন ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। যার ফলে সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাঁধে ক্যামেরা, হাতে ডায়রী, পকেটে কলম গুজে সারাদিন ইউএনও ও ওসির দপ্তরে ঘুরলেই তাকে আদর্শ ও প্রকৃত সাংবাদিক বলা যাবে না।

যিনি সমাজ ও জনগনের উন্নয়ন ও কল্যানের জন্য সত্যের সন্ধানে নির্ভিকতার সাথে অবিচল, যিনি ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে অভ্যস্থ তিনি আদর্শ সাংবাদিক। জার্নালিজম হলো জার্নাল ও ইজম এই দুটি শাব্দের মিলিত রুপ। জার্নাল শব্দের অর্থ হচ্ছে কোন কিছু প্রকাশ করা আর ইজম শব্দের অর্থ হচ্ছে অভ্যাস করা, অনুশীলন বা চর্চা করা। এই হিসেবে কোনকিছু প্রকাশ করার জন্য যে চর্চা বা অনুশীলন করা হয় তার নাম সাংবাদিকতা বা জার্নালিজম।

কিন্তু এ সংজ্ঞা আজ শুধু কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ। সংবাদ পত্রের অনেক হকার এখন রীতিমত সাংবাদিকের কার্ড ঝুলিয়ে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করছে। ষ্টুডিওতে ছবি তুলতো সেও এখন সাংবাদিক। সব থেকে অবাক করার ব্যাপার হলো একজন ভিডিও ক্যামেরাম্যান ( যিনি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিডিও করতো) তিনি এখন নামকরা একটি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি। কোন এক মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে এই ব্যক্তিকে ভিডিও করতে দেখে স্বভাবতই ভেবেছি সে হয়তো ভাড়ায় এসেছে ভিডিও করতে। কিন্তু চমকে উঠেছি যখন দেখলাম তার গলায় টেলিভিশন সাংবাদিকের কার্ড ঝুলানো। যাকে তাকে চ্যানেল ধরে কতৃপক্ষ হাতে মাইক্রোফোন দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। টিভি সাংবাদিক হয়ে সহজে ষ্টার হয়ে যাবার লোভে অনেক তরুন সাংবাদিক বন্ধুরাই একটু বেশি মাত্রায় আবেগী হয়ে পড়ছেন। তাদের আচরণ অনেক সময় মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে।

ছোট এ উদাহরণ বলে দিচ্ছে সাংবাদিকতার মহান পেশা আজ কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা রীতিমত ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।সাংবাদিকদের দেশ ও জাতির বিবেক বলা হয়। বর্তমান এক শ্রেণির অর্থলোভী টাউট-বাটপারদের এ পেশার মধ্যে দেখা যাচ্ছে।

এদের অনেকের আবার সংবাদ লেখার যোগ্যতা নেই, অথচ গলাই একটি কার্ড ঝুলিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের তেলমারা ও থানায় দালালীসহ বিভিন্ন অফিস আদালতে হানা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরব চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে। আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় থাকে এরা। নিজের ও অপরাপর ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে। এদের এ অপতৎপরতার কারণে সাংবাদিক শব্দটি বিকৃত হয়ে ‘সাংঘাতিক’ হয়েছে।

জাতির বিবেবকে আজ অনেকে‘সাংঘাতিক’ বলে ডেকেছে। অনেকে আবার পকেট সাংবাদিকও বলে থাকে। এক কাপ চা, একটা পান ও ১/২শ’ টাকা দিলেই এরা ফিট।

সাংবাদিক নামের এসব অপসাংবাদিকদের রূখতে প্রকৃত ও আদর্শ সাংবাদিকদের স্বেচ্ছার হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়তে হবে, তাহলে আদর্শ সাংবাদিকতা পেশা গ্লানী দূর হবে। তা না হলে গোটা সমাজ ব্যবস্থা ওই সকল টাউট-বাটপারদের দখলে এসে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশ ও জাতি। আসুন আমরা সবাই মিলে অপসাংবাদিকতাকে সামাজিকভাবে বয়কট করি।

লেখাটি কাউকে উদ্যশ্য করে লেখা হয়নি। বর্তমানে আমাদের আশে পাশে যা দেখছি তাই লিখলাম।

-মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, গণমাধ্যম কর্মী