সাফারী পার্কে নতুন আকর্ষণ আফ্রিকার জিরাফ

জিরাফ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের উপজেলা শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা জিরাফ বাংলাদেশের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে । পার্কের আবদ্ধ পরিবেশে নিয়মিত বাচ্চা প্রসবসহ বাংলাদেশের স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের বিচরণ সম্ভাবনা জাগাচ্ছে। ইতোমধ্যেই পার্কেই জন্ম নেয়া নতুন তিন সদস্য অন্যান্য জিরাফগুলোর সাথে বেড়ে উঠছে। পার্কের কর্মকর্তা সূত্রে জানাযায় সাফারী পার্কের জিরাফগুলো থেকে ভবিষত্যে আরো বাচ্চা পাওয়া যাবে ।

জিরাফ একটি আফ্রিকান বন্য প্রাণী। বনের বিশেষ বিশেষ জায়গায় এরা দলবেঁধে চলাফেরা করে। জিরাফের গায়ে আঁকাবাঁকা দাগ থাকে। তবে দুটি জিরাফের গায়ের দাগ কখনোই একরকম হয় না। পৃথিবীর সবচাইতে লম্বা প্রাণী হিসেবে জিরাফের অবস্থান এরা মূলত নিরীহ স্বভাবের। একটি জিরাফ দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৮ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। লম্বা ও উচ্চতার কারণে প্রাণী জগতে জিরাফের স্থান প্রথম সারিতে। জিরাফের দৃষ্টি শক্তি খুবই তীক্ষ্ণ হওয়ায় দূরের শত্রুদের এরা সহজেই দেখতে পারে। এরা ঘন্টায় প্রায় ৫৬কিলোমিটার বেগে দৌঁড়াতে পারে। জন্মের সময় একটি জিরাফ প্রায় ৬ফুট লম্বা হয় এবং প্রতিটি জিরাফের ওজন ৬৮ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। জিরাফের জিহ্বা খুব লম্বা থাকায় নিজের কান পরিষ্কারের জন্য জিরাফ তার প্রায় ২১ইঞ্চি লম্বা জিহ্বা ব্যবহার করেন।

জিরাফের প্রধান খাদ্য গাছের পাতা এবং বিশেষ কাটাযুক্ত খাবার। বিশেষ করে আকাশ মনি ও অর্জুন গাছের পাতা এদের খুব প্রিয়। যদিও এই গাছ বেশ উঁচু হয়। কিন্তু লম্বা গলার জন্য জিরাফ খুব সহজেই এই গাছের পাতা খেতে পারে। জিরাফের আরেকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা উটের মতো পানি না খেয়ে দীর্ঘদিন কাটিয়ে দিতে পারে। স্বাভাবিকভাবে একটানা সাতদিন পানি না খেলেও এদের কোনো সমস্যা হয় না।

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক আনিছুর রহমান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, ২০১৩ সালে থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাফারি পার্কে চার দফায় দক্ষিণ অফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ১০টি জিরাফ আনা হয়। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১৭ মে দুইটি জিরাফ অসুস্থ হয়ে মারা যায়। একই বছরের জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে একটি পুরুষ ও দুটি মাদিসহ মোট ৩টি জিরাফের জন্ম হয়। সাফারী পার্কে বর্তমানে মোট জিরাফ রয়েছে ১১টি, যার মধ্যে ৪টি পুরুষ ও ৭টি মাদি। আবদ্ধ পরিবেশে বাংলাদেশে জিরাফের বাচ্চা দেয়ার ঘটনা ছিল এটাই প্রথম। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশে পরিবেশের বেশি তারতম্য না থাকায় খুব সহজেই দেশীয় পরিবেশে জিরাফগুলো অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিয়মিত বাচ্চাদানসহ স্বাভাবিক পরিবেশে তাঁরা বেড়ে উঠছে। আগামী বছর জিরাফ পরিবারে আরোও নতুন অতিথি আগমনের আশা করা যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, জিরাফের বাচ্চাগুলো সারাদিনই বেষ্টনী মাতিয়ে রাখে। আগত দর্শণার্থীদের অন্যতম আনন্দের খোরাকের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে জিরাফ বেষ্টনী। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর আরো বাচ্চা পাবো বলে আশা করছি।