সাফারী পার্কে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের দাবী

রেজাউল সরকার (আঁধার): গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আজ বিনোদনের আনন্দ নেই। দর্শনার্থীদের মনে অন্য রকম আনন্দ বিরাজ করছে।
আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী।সেই সাথে আজ জাতীয় শিশু দিবসও। তাই পার্ক কর্তৃপক্ষ শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য পার্কের প্রবেশ দোয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
সকাল থেকেই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পার্কে শিশু শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায়।
পার্কের ভিতরে দর্শনার্থীরা কাকে যেন খুঁজছেন। বেশ অবাক ভঙ্গি করে চার পাশে শোধু খোঁজাখুঁজি চলছে। এক জন অন্য জনকে বলছে কোথায় তিনি? আরেক জন বলছে, চলো সামনে যাই ওখানে মনে হয় থাকতে পারে।
প্রতিবেদক তাঁদের পিছন পিছন ছুটে যাচ্ছেন। হঠাৎ শিশু ড্রাই পার্কের সামনে এসে বলেই ফেললেন খোঁজাখুঁজি করে কি হবে। ওনি তো আমাদের মনের ভিতর রয়েছেন।
সেই দর্শনার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের চার শিক্ষার্থী রাজু,মিতু,রবি ও কাঞ্চন।
তাদের সাথে কথা হলে তারা প্রতিবেদকে বলেন, আসলে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ভেবে ছিলাম গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে ঘুরতে যাবো। সেই জন্যই আসা। কিন্তু আমরা যে কারণে এসেছি তা কিন্তু এখনো পাইনি। জিজ্ঞাস করা হলো কি করাণে? তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নামে পার্ক কিন্তু পার্কে জাতির পিতার পরিচয় গাঁথা কোনো ভাস্কর্য নেই। যা দেখে শিশু শিক্ষার্থীরা জানবে জাতির পিতার কথা। কেন ওনি জাতির পিতা, কিভাবেই বা হলেন বঙ্গবন্ধু। এরকম কিছু তাঁর পরিচয় গাঁথা একটি স্থাপনা রাখা দরকার ছিলো পার্কের ভিতরে।
শিশু দিবসে পার্ক উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কি শিখবে শিশু শিক্ষার্থীরা। আমাদের দাবি এখানে যেন বঙ্গবন্ধুর জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়সহ একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। তাদের এমন দাবির সাথে শতশত দর্শনার্থীরা চাইলেন বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত পরিচয় গাঁথা একটি ভাস্কর্য।
এনিয়ে কথা হয় পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. সাহ্বুদ্দিনের সাথে।
তিনি বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, আজ শিশুদের জন্য পার্ক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এমনিতে সব সময় পার্কে পাঁচ বছরের নিচে সকল শিশুরা প্রবেশসহ সকল কিছু ফ্রি। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নেই, তবে ওনার একটি ছবি আছে প্রবেশ পথেই। পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে ট্যুরিষ্ট ও থানা পুলিশ নিয়োজিত আছেন।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতির পিতার পরিচয় গাঁথা একটি ভাস্কর্য নির্মানের জন্য সংশ্লীষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হবে। যারা এমন সৃজনশীল চিন্তা থেকে ভাস্কর্য নির্মানের দাবি জানিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।