প্রধানমন্ত্রী সিএইচসিপিদের দাবী মেনে নিন : বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা

স্টাফ রিপোর্টার: চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য আন্দোলনরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার-সিএইচসিপিদের দাবী মেনে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট

সোমবার(২২ জানুয়ারি) সংস্থাটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা নিজ সংগঠনের টুইটারে এক পোস্টে এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সেখানে বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিক ও সিএইচসিপিদের সেবা নিয়ে বাংলাদেশের প্রায় মানুষই সন্তুষ্ট।সিএইচসিপিদের পারফরমেন্সে দেশের স্বাস্থ্যোন্নতিতে আপনি ও রাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন। সারা দুনিয়া আপনার কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করছে।”

“কোনো কারণে একদিনের জন্যেও ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকলে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তারা রাজনীতি বুঝেন না।তারা বিশ্ব ব্যাংক কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চেনেন না। তারা চান ক্লিনিকগুলোর সেবা যেন কোনো দিন বন্ধ না হয়।” উল্লেখ করেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান।

তিনি মাঠ পর্যায়ের এই স্বাস্থ্য কর্মীদের হাল তুলে ধরে বলেন, “সিএইচসিপিদের চাকরি রাজস্ব খাতে উন্নীত করার দাবীতে সমগ্র বাংলাদেশে আন্দোলন হচ্ছে। আজ কমিউনিটি ক্লিনিকে তালা ঝুলছে।আন্দোলনের মাধ্যমে তারা জানাচ্ছেন তৃণমূলের স্বাস্থ্যচিত্র বদলে দিচ্ছেন যেই সিএইচসিপিরা সেই সিএইচসিপিদের ন্যায্য বেতন ভাতা নেই। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটান। বয়স না থাকায় অন্য চাকরিতেও যেতে পারছেন না। যা খুবই অমানবিক ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।”

শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি অবহিত করে তিনি বলেন, “সিএইচসিপিরা আপনার সন্তান। তারা ক্ষতিগ্রস্থ হোক নিশ্চয়ই আপনি চান না। তাই ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট আপনাকে অনুরোধ করছে সিএইচসিপিদের দাবী মেনে নিন। সন্তানরা যেন চির দিন মাকে স্মরণ করতে পারে শ্রদ্ধার সাথে এই আহ্বান জানাই।”

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেশে প্রতি ছয় হাজার জন পল্লী জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে ১৪ হাজার সিসি চালু রয়েছে। ক্লিনিকগুলোতে মোট ত্রিশ ধরনের ঔষধ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। শুধু ঔষধ সরবরাহ নয়, ক্লিনিকে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা, বয়:সন্ধি ও প্রজনন সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদান করা হয়। জন্ম নিয়ন্ত্রন সামগ্রী পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের পাশাপাশি গণসচেনতা সৃষ্টি করা হয়। কিভাবে সুস্থ্য থাকা যায় এসকল পরামর্শও দেয়া হয়।

এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সিসিগুলোর প্রতিটিতে রয়েছেন একজন করে প্রশিক্ষিত পরিবার কল্যাণ সহকারী, স্বাস্থ্য সহকারী এবং কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার(সিএইচসিপি)। সপ্তাহের ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন সেবা দান করেন পরিবার কল্যাণ সহকারী আর তিন দিন সেবা দান করেন স্বাস্থ্য সহকারী। সপ্তাহের ছয় দিনই কর্মরত থাকেন সিএইচসিপি।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রকল্পের আওতায় চার বছর মেয়াদে ১৩ হাজার ৫০০ সিএইচসিপি নিয়োগ দেয়া হয় ২০১১ সালের অক্টোবরে। পরে আরও ৫০০ জনকে নিয়োগ করা হয়।