সিএনজি মালিককে হত্যা ও ডাকাতি : কাপাসিয়ার শওকত সহ ৪ জনের ফাঁসি

৪ জনের ফাঁসি

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে সিএনজি অটোরিকশার মালিককে হত্যা  ও সিএনজি ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে চার আসামির মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে কাপাসিয়ার শওকতও রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ দন্ডাদেশ দেন।

রায়ে একই সঙ্গে ওই চার আসামীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর একটি ধারায় ১০ বছর করে সশ্রম কারদন্ড দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নরসিংদীর মনোহরদী থানার কালিয়াকুড়ি গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (২৫), গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া চালাবাজার এলাকার আ: গণি ওরফে সুরুজের ছেলে শওকত (২৮), একই জেলার শ্রীপুরের মাষ্টারবাড়ি এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে মিজান (২৯) ও নেত্রকানার পূর্বধলা থানার বাঘবেড় গ্রামের শাহজাহানের ছেলে শাহীন মিয়া (২৯)। দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শওকত পলাতক রয়েছে।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো: রবিউল ইসলাম জানান, ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি রাতে শ্রীপুরের মাঠখোলা খাসপাড়া এলাকার বন থেকে ঘাড়কাটা একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে উদ্ধারকৃত মরদেহটি সিএনজি আটোরিকশা মালিক খোকা মিয়ার। তার বাড়ি নরসিংদীতে। কয়েকজন ডাকাত যাত্রী বেশে অটোরিকটিকে বনের মধ্যে নিয়ে মালিক খোকা মিয়াকে হত্যা করে এবং চালক জসিম উদ্দিনকে ধারলো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম করে আটো রিকশাটি ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। পরে এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার এসআই আব্দুল ছালম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো: শহিদুল ইসলাম তদন্ত শেষে ওই মামলায় ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানীশেষে আজ মঙ্গলবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে খোকা মিয়াকে হত্যা করে সিএন্ডজি অটোরিকশটি ডাকাতি করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই চারজনের প্রত্যেককে মৃত্যুদন্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং সিএনজি চালক জসিম উদ্দিনকে আহত করার দায়ে ওই চারজনের প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেন।

অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় অপর দুই আসামি শেরপুরের জিনাইগাতি থানার নওকুচি গ্রামের মাইকেল সংমার শিশির সংমা এবং ময়মনসিংহের কোতয়ালি থানার চরজেলখানা এলাকার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে খোরশেদকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট হারিজ উদ্দিন আহম্মদ এবং আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট মুমিন খান ও মোসা: নাসরিন আক্তার মামলাটি পরিচালনা করেন।