‘সুমন মেম্বার কর্তৃক গরু চুরি’ মামলার রিপোর্ট দিয়েছে পিবিআই

সুমন মেম্বার

বিজ্ঞাপন চ্যানেল রিপোর্ট: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বহুল আলোচিত “সুমন মেম্বার কর্তৃক গরু চুরি” মামলার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)। ১১ ডিসেম্বর সকালে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

আদালতে রিপোর্টটি দাখিল করেন পিবিআই’র গাজীপুর জেলা অফিসের এ এস আই মোঃ শাহীন উদ্দিন।

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, “অত্র মামলার বাদী কাপাসিয়া উপজেলার বাঘুয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা প্রায় দেড় বৎসর পূর্বে তার পিতা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকের মাধ্যমে একটি লাল রঙের ষাঁড় বাছুর ক্রয় করে পাশ্ববর্তী চরদুর্লভখাঁ গ্রামের আব্দুল মতিনের নিকট বর্গা দেন।

কিন্তু বিবাদী বারিষাব ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড চরদুর্লভখাঁ গ্রামের বর্তমান মেম্বার মোঃ সুমন বেপারী ও তার সহযোগীরা ঘটনার দিন(গত ২৬ আগস্ট ২০১৭) বিকেল  অনুমান ৪টায় মতিনের বাড়ি হতে উক্ত বর্গা বাছুরটি নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে বাদী উক্ত ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় লোকদের নিয়ে সুমন বেপারীর বাড়িতে বাদীর গরুটি আনতে যায়। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমন বেপারী বাদীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।

পরবর্তীতে বর্গাচাষী আব্দুল মতিন সহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বাদী উক্ত গরুটি সুমন বেপারীর বাড়ি হতে নিয়ে আসে।” 

সুমন বেপারীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে পিবিআই’র প্রতিবেদনে বলা হয়।

এর আগে ১৬ অক্টোবর গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সুমন মেম্বার ও তার সহযোগীদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে গরু চুরি, চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন, দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ এনে সিআর মামলা (নং-৩৭০/২০১৭) দায়ের করেন গরুটির মূল মালিক মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা।

মামলাটি আদালত হতে অনুসন্ধান পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই), গাজীপুর জেলাকে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে পিবিআই জেলা প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসির আহমেদ শিকদারের তদারকীতে মামলাটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেন এ এস আই মোঃ শাহীন উদ্দিন।

সরেজমিনে তদন্তের সময় উপস্থিত শত শত লোকের মোকাবেলায় সুমন মেম্বার পিবিআই’র তদন্তকারী অফিসারের নিকট দোষ স্বীকার করে বলেন, “মতিনের বাড়ি হতে গরু নেয়াটা আমার ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এরূপ করব না। আমি অনুতপ্ত।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীর আইনজীবী মোঃ লাবীব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তকারী অফিসার রিপোর্টে কিছু জায়গায় অস্পষ্ট, স্ববিরোধী ও মনগড়া কথাবার্তা যুক্ত করেছেন।ন্যায় বিচারের স্বার্থে রিপোর্ট হতে এগুলো বাদ দেওয়া প্রয়োজন।এজন্য আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নারাজীর আবেদন করব।