সেই ২৩ যাত্রী কফিনবন্দি হয়ে স্বজনদের কাছে ফিরলেন

কফিনবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার: নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

আগে থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ভারী হয়ে ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় রোল ওঠে কান্নার। একেকজনের নাম ঘোষণা হয় আর কান্নার রোল আরও উচ্চকিত হয়। হৃদয়বিদারক এই পরিবেশ চোখে জল আনে উপস্থিত সবার।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা মরদেহগুলো একে একে বয়ে এনে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এর আগে আজ আসরের নামাজের পর ৫টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে ওই ২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাকর্মকর্তা, নিহতদের স্বজন-সহকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

ইউএস-বাংলা

এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানান। আর জাতীয় সংসদের পক্ষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয় ২৩টি মরদেহ। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ পরিবেশ।

তারও আগে চারটা ১০ মিনিটের দিকে ২৩টি মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ কার্গো বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বেলা আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে ২৩ মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এয়ারক্রাফটটি।

যে ২৩ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়, তারা হলেন- আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা ও নুরুজ্জামান।

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে গত ১২ মার্চ বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে চার ক্রুসহ ৫১ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অন্য তিনজনকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।