সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী ২০ ডিসেম্বর

মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কাণ্ডারী সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী ২০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে পরিবার ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে বনানী কবরস্থানে জোহরা তাজউদ্দীনের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। এছাড়া দেশ-বিদেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের তৃতীয় মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। এতে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে মহান নেত্রীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতা-কর্মীরা আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করছেন।

জোহরা তাজউদ্দীন ইন্তেকাল করেন ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর। এর আগে নভেম্বরে পড়ে গিয়ে জোহরা তাজউদ্দীন গুরুতর আহত হন। তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিল্লীর একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর একটি অস্ত্রোপচার হলে কিছুটা উন্নতি দেখা দিলে গত ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় এনে পুনরায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি কাপাসিয়ায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম ফেলে জরুরিভাবে ঢাকায় ফিরে আসেন। বিকালে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে ভেন্টিলেশন দিয়ে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরদিন ২০ ডিসেম্বর সকালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একই সালের ৩নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাঘারে ঘাতকরা নৃশংসভাবে হত্যা করে জাতীয় চার নেতাকে। এই চার নেতার একজন হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে এবং কারাগারে জাতীয় চার  নেতাকে হত্যার পর  আওয়ামী লীগের যখন চরম দুর্দিন চলছিল তখনই আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে হাল ধরে দলকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন জোহরা তাজউদ্দীন। তার প্রচেষ্টায় সেদিন আওয়ামী লীগ ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে সেসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত হলে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।

১৯৭৬ সালে দলের পুনরুজ্জীবনের সময় ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নেন মহিউদ্দিন আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ১৯৭৭ সালে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে আহ্বায়ক করা হয়। ১৯৭৮-এ অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আবদুল মালেক উকিল সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।১৯৮১ সালে প্রথম শেখ হাসিনা সভানেত্রী ও আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আবদুর রাজ্জাক দল ত্যাগের কারণে ১৯৮২ সালে সাজেদা চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে নিয়োজিত হন।

২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলেনে জোহরা তাজউদ্দীনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত  তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের পরিবারে জীবন কাটিয়েছেন জোহরা তাজউদ্দীন। সাবেক স্বরাষ্টপ্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ও বর্তমান সংসদের নির্বাচিত সদস্য সিমিন হোসেন রিমি তার সন্তান।

আরও পড়ুন : শ্রদ্ধাঞ্জলি : সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন ছিলেন দুঃসময়ের কান্ডারি