শ্রীপুরে যমুনা ট্রেন দাঁড় করিয়ে হাজারো জনতার মানববন্ধন

শ্রীপুরে যমুনা ট্রেন দাঁড় করিয়ে হাজারো জনতার মানববন্ধন

শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে মোঃ আকতার হোসেন: আন্ত:নগর যমুনা ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবীতে গাজীপুরের শ্রীপুরে ফের মানববন্ধন হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৫ টার দিকে রেলষ্টেশন প্লাটফর্মে আন্ত:নগর ট্রেন যমুনা দাঁড় করিয়ে এই মানববন্ধন করেন মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মাসের পর মাস বাজার ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে লাল পতাকা হাতে নিয়ে রেলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আন্ত:নগর যমুনা ট্রেনটি যাত্রা বিরতি করে সরকারী ভাবে দাঁড়ানোর ও টিকের ব্যবস্থার দাবী করে আছেন।

১৮ মাস আগে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে বোম ফোটালে এর দু’দিন পরে রেলষ্টেশনে যাত্রী ও স্থানীয় লোকজনের সাথে মত বিনিময় কথা থাকলেও এটি একটি জনসভায় রুপান্তরিত হয়। এই জনসভায় রেল মন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু আন্ত:নগর যমুনা ট্রেনটি যাত্রা বিরতি দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় রেলের উর্ধ্বতন কর্মকর্ত ও স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব এড. রহমত আলী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ: জলিলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।শ্রীপুরে যমুনা ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবী গত বছর ৪ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব এড. মো: রহমত আলী উত্থাপন করলে এর জবাবে রেলমন্ত্রী মো: মজিবুর হক চুন্নু শ্রীপুরে রেলওয়ে ষ্টেশনে আন্ত:নগর যমুনা এক্সপ্রেস যাত্রা বিরতির বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে দাবী করে।কিন্তু আজও রেলমন্ত্রীর আন্ত:নগর যমুনা ট্রেনটির যাত্রা বিরতি দিতে পারে নি। এতে রেলমন্ত্রী প্রতি সর্বস্তরের জনগন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন আহমদ জানান, এই ট্রেনটি সকালে-বিকালে সরকারী-বেসরকারী, ব্যবসায়ী ও সাধারন জনগন চলাচল করেন। পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এড. নজরুল ইসলাম জানান, এই ট্রেনটি যাত্রা বিরতি করলে রেলের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে ও বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি আরো উজ্জল হবে। পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান জানান, ট্রেনটির যাত্রা বিরতির জন্য দাবী করলে রেলমন্ত্রি জনসম্মুখে প্রতিশ্রুতি দিলেও দাবী পূরন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে ট্রেনটির যাত্রা বিরতির জন্য রেল মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাই।

শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরন্নবী আকন্দ জানান, গফরগাঁও, মশাখালী ও কাওরাইদ থেকে শতাধীক ছাত্র-ছাত্রী যাতায়ত করে এবং সময় মত কাশে অংশগ্রহন করতে পারে। যাত্রা বিরতির দাবীতে শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী তপন কুমার জানান, সংসদ ভবন, রেলমন্ত্রীর ভবন, রেল অফিস চট্টগ্রামে একাধিকবার আবেদনপত্র নিয়ে জমা দিলে রেল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত ট্রেনটি যাত্রা বিরতি হয়নি।

শ্রীপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতন জানান, ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবত ট্রেনটি যাত্রা বিরতির দাবীতে কর্ম বাদ দিয়েও কোন লাভ হয়নি।ট্রেনটি যাত্রা বিরতি হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক চিশতী আলমগীর জানান, ট্রেনটির যাত্রা বিরতির জন্য দীর্ঘদিন যাবত শান্তিপূর্নভাবে আন্দোলন করা হচ্ছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু জানান, ট্রেনটি স্টপেজ দিলে প্রায় ৫ শতাধীক ছাত্র-ছাত্রী কয়েকটি কলেজের লেখাপড়া করার জন্য সময়মত আসতে পারবে। ট্রেনযাত্রী মো: আকতার হোসেন জানান, শ্রীপুর থেকে বাসে গেলে ৫/৬ ঘন্টা যানজটে পড়তে হয়। ট্রেনে গেলে দেড়/দুই ঘন্টার মধ্যে ঢাকা পৌছতে পারি। আন্ত:নগর যমুনা যাত্রা বিরতি দেওয়ার জন্য ভোর থেকে শ্রীপুর রেলষ্ট্রেশনে সকল সর্বস্তরের জনগন একত্রিত হয়ে মানবন্ধনে অংশগ্রহন করেন।