আজ মঙ্গলবার | ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ || ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
photo

তৃণমূল মানুষে বঙ্গবন্ধু - একটি পর্যালোচনা

     শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

Photo
কাপাসিয়ায় জাতীয় শোক দিবসের মাসব্যাপী কর্মসূচী

মোহাম্মদ মনজুরুল হক গাজী : প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে বিভিন্ন যুগে বিশেষ করে মুসলিম আমলে এবং সর্বোপরি সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ার নামটি সমোজ্জ্বল। প্রাচীন বাংলার মুসলিম যুগে এখানে উন্নতমানের কার্পাস নামক তুলা উৎপাদন এবং বিদেশে রফতানি হতো- সেই কার্পাস নাম থেকেই কাপাসিয়া নামের উৎপত্তি।

বাংলাদেশের রূপকার জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শহীদ শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মুক্তিযুদ্ধকালীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ- বাংলাদেশ তথা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে দুই মহান রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক নেতার নাম। মুক্তিযুদ্ধের ডাক, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদশের স্বাধীনতা অর্জন, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় এই দুই মহান নেতার অবদান আজ বিশ্ব স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দেশবাসীকে সফল মুক্তিযুদ্ধ উপহার দিয়ে বিজয় অর্জন, বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে তাকে রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা প্রদান, এক সময়কার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী, জাতীয় চার নেতার অন্যতম একজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা- প্রবাহের মাধ্যমে ইতিহাসে কিংবদন্তী হয়ে ওঠেন যিনি এবং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরেই যার স্থান তিনি হলেন জাতির সূর্য্য সন্তান বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ। এই তাজউদ্দীন আহমদের জন্মস্থান কাপাসিয়া হওয়াতেই কিন্তু কাপাসিয়া অঞ্চলটি/জনপথটি সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সমোজ্জ্বল-গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ কাপাসিয়ার সন্তান- দেশবাসী কাপাসিয়াকে এভাবেই চিনে বহুলাংশে।

বাংলাদেশের রাজনীতি যদি গভীর/নিবিড় আঁধারের  দিকে নিমজ্জিত হতে চলে- তখন কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদের জীবন ও কর্ম থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।   Tajuddin ahmed is our light in the deep dark. যিনি শিখিয়েছেন রাজনীতি ভোগের বিষয় নয়; ত্যাগের বিষয়- সেই বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার অন্তর্গত রায়েদ ইউনিয়নের দরদরিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

এবার মূল আলোচনায় আসা যাক- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী স্মরণে এ বছর ২০১৮ সালে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে (জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে) ‘জাতীয় শোক দিবস’ ১৫ আগস্ট পালন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে গাজীপুরের কাপাসিয়াতেও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। তবে কাপাসিয়ায় শোক দিবস পালনে যুক্ত ছিল ভিন্নমাত্রা। জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে কাপাসিয়ার যেমন আলাদা গুরুত্ব রয়েছে, তেমনটি প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কাপাসিয়া উপজেলা শাখা ০১-৩১ আগস্ট মাসব্যাপি জাতীয় শোক দিবস পালনে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে।

শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজকরাই মিডিয়াকে তথা সাংবাদিকদের তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান- কাছে টানেন- পাছে উদ্দেশ্য যাতে অনুষ্ঠানমালা ফলাও করে খবরে প্রচার হয়, বড় আকারে নিউজ কাভারেজ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কাপাসিয়া উপজেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত কাপাসিয়ায় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মাসব্যাপী জাতীয় শোক দিবস পালন কর্মসূচীর দাওয়াতপত্র কাপাসিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের হাতে যথাসময়ে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন।

দাওয়াতপত্রটি যেকোনো বস্তুনিষ্ঠ-নিরপেক্ষ সাংবাদিককে ভাবাতে বাধ্য, দাওয়াতপত্রের অনুষ্ঠান সূচীটিও পর্যালোচিত হওয়ার দাবি রাখে এবং শিকড় সন্ধানী প্রকৃত সাংবাদিক দু’কলম লিখতে বাধ্য। ৪ পৃষ্ঠার দাওয়াতপত্রের প্রথম কভার পৃষ্ঠার প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু ভাবছেন- হয়তো দেশ, দেশের জনগণ ও রাজনীতি নিয়ে। উপরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়ে কাঁদছেন, চোখের পানি মুচছেন। শেষ পৃষ্ঠার ওপরের দিকে প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের ১৭ জন শহীদদের- যাদের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ভিতরের ২য় ও ৩য় পৃষ্ঠায় মাসব্যাপি কর্মসূচীর ধরণ, কারা বাস্তবায়ন করবে, কোথায় অনুষ্ঠান হবে ইত্যাদি। ৩য় পৃষ্ঠার নিচ দিকে প্রচ্ছদে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ছবি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কাপাসিয়া উপজেলা শাখা- মাসব্যাপি জাতীয় শোক দিবস পালনের আমন্ত্রণপত্রে লিখেছে-

‘প্রিয় সুধী

১৫ আগস্ট ১৯৭৫। বাঙালির ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসররা এ ধরণের নৃশংসতম ও জঘন্যতম হত্যাকান্ড ঘটায়। কারণ তারা জানতো ভাবীকাল বঙ্গবন্ধুকে স্বীকৃতি দেবে মহাকালের মহানায়করূপে। তারা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করলেই বাঙালি হবে নেতা শূন্য। থাকবে না আওয়ামীলীগ, থাকবে না বাংলাদেশ, থাকবে না স্বাধীনতা। তাদের অলীক কল্পনা ও রঙ্গিন স্বপ্নকে বঙ্গবন্ধু কন্যা, সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরতœ শেখ হাসিনা ভুল প্রমাণ করলেন। প্রমাণ করলেন আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় দেদীপ্যমান। তাঁদের হত্যা করা যায় না। তাঁদের নি:শেষ করা যায় না।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত। উন্নয়নের মহাসড়কের দিকপাল ও রোল মডেল। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আদলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কাপাসিয়া উপজেলা শাখা বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে ১-৩১ আগস্ট মাসব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। মানুষের প্রতি ছিল বঙ্গবন্ধুর অগাধ বিশ্বাস ও গভীর ভালবাসা, যা তিনি নিজেই তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বলেছেন, ‘‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর  স¤পৃক্তির উৎস ভালবাসা, অক্ষয় ভালবাসা, যে ভালবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’’ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কাপাসিয়া উপজেলা শাখা বঙ্গবন্ধুর এ উক্তিকে হৃদয়ে ধারণ করেই তার রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

সে লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী স্মরণে গৃহীত মাসব্যাপি অনুষ্ঠানমালার প্রতিটি আয়োজনে আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।

জাতীয় শোক দিবস পালনের মাসব্যাপি কর্মসূচী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- কর্মসূচীর মূল লক্ষ্যই ছিল তৃণমূল মানুষের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, পুরো কাপাসিয়ায় তৃণমূল মানুষের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপজেলা কমিটি ১১টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে কয়েকটি ওয়ার্ড মিলে গ্রাম সমাবেশ করে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করেছে এবং এসব গ্রাম সমাবেশে আওয়ামীলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব সমাবেশে উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গেছেন। এছাড়া মাসব্যাপি কর্মসূচী পর্যালোচনা করলে আরও দেখা যায়- প্রত্যেক ইউনিয়নের প্রত্যেক ওয়ার্ডের সকল মসজিদে দোয়া মাহফিল, শ্রমিক সমাবেশ ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা, মহিলা সমাবেশ ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিটি ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো। ১৫ আগস্ট শোকর‌্যালি এবং এদিন উপজেলার ৯৯টি ওয়ার্ডে আলোচনা সভা, দোয়া ও গণভোজের আয়োজনসহ দিনব্যাপি কমসূচী।

কর্মসূচীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল উপজেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর পরিচয় তুলে ধরতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের লিখিত প্রবন্ধ থেকে পাঠ। প্রবন্ধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অধ্যাপক কবির চৌধুরী রচিত ‘মুজিব মানে মুক্তি’ অধ্যাপক ড. অনুপম সেন রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম’, অধ্যাপক ড. এম সাইদুর রহমান রচিত ‘বাঙালির ঠিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ আনু মাহমুদ রচিত ‘যিনি না এলে বাংলাদেশ হতো না’, আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’, আবদুল মতিন রচিত ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের মুখ্য উদ্দেশ্য’ এবং সাংবাদিক কে জি মোস্তফা রচিত ‘জীবন সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু’ প্রভৃতি।

নিউজ কাভারেজের জন্য ১৩ আগস্ট কাপাসিয়ার আমরাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এবং ২৮ আসস্ট টোকের বীর উজলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত দুটি গ্রাম সমাবেশ ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। সরেজমিনে দেখা গেছে, যারা সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত নয়, এসব সমাবেশে শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার এমন সাধারণ মানুষের উপস্থিতি- যারা শুনতে, বুঝতে চাচ্ছেন নেতৃবৃন্দ কি বলছেন।

১৩ আগস্টের সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গতাজ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। তার বক্তব্য একটি জাতীয় দৈনিকে শিরোনাম হয়েছিল, ‘বঙ্গতাজের পরিবার দুর্নীতিমুক্ত- মেয়র জাহাঙ্গীর।’ মেয়র তার বক্তব্যে আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজের পরিবারের সদস্যদের সাথে কাজ করতে পারা সৌভাগ্যের ব্যাপার। বঙ্গতাজ কন্যা সিমিন হোসেনে রিমি এমপি সমৃদ্ধ ও উন্নত কাপাসিয়া গড়ার লক্ষ্যে আপনাদের সাথে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। ২৮ আগস্টের সমাবেশেও প্রধান অতিথি ছিলেন সিমিন হোসেন রিমি এমপি এবং প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্ল্যাহ খান। তিনি বলেন, যাদের পারিবারিক ঐতিহ্য আছে, মানুষ যাদের পক্ষে ও যাদের যোগ্যতা রয়েছে- তাদের ঘরেই মনোনয়ন যাবে। আরও লক্ষ্য করা গেছে- গত দুই মেয়াদে স্থানীয় এমপির সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের সচিত্র লিফলেট উপস্থিত সুধীদের মাঝে বিতরণ।

কাপাসিয়ায় মাসব্যাপি জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচী সম্পর্কে সর্বশেষ মূল্যায়ন হলো- উপজেলা আওয়ামীলীগ এই কর্মসূচীর মাধ্যমে একদিকে বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও জীবনী তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে উপস্থিত জনতার মাঝে স্থানীয় এমপির উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে এই ম্যাসেজটি জানিয়ে দিচ্ছেন যে, সামনে নির্বাচন, উন্নত-সমৃদ্ধ ও শান্তিময় কাপাসিয়ার জন্য আপনাদেরকে জেনে-বুঝে-শুনে ভোট দিতে হবে।

সবশেষে নিজের একটি মতামত ব্যক্ত করে যবনিকা টানছি- রাজনীতি আসলেই একটি সাধনা, পেশা অথবা নেশা এবং ত্যাগের বিষয়। তা না হলে কিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে মাসের পর মাস রাজনীতির মাঠে কাটিয়ে দেওয়া যায়। যাক, রাজনৈতিক সকল নেতা-কর্মীদের রাজনীতি হোক মানুষের মঙ্গলে, দেশের কল্যাণে। অপরাজনীতি নয়। বঙ্গতাজ কন্যা বিশিষ্ট লেখক সিমিন হোসেন রিমি এমপির ভাষায়- মানবিক কাপাসিয়া গড়তে চাই।

লেখক: মোহাম্মদ মনজুরুল হক গাজী,শিক্ষক ও সাংবাদিক,আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি




photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন