আজ মঙ্গলবার | ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ || ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ১১:০১ পূর্বাহ্ন
photo

জঙ্গির অপবাদ থেকে মুক্তি মেলেনি বাগমারাবাসীর

     সোমবার, ০২ এপ্রিল, ২০১৮

Photo
ফাঁসির আদেশ কার্যকর

ফাঁসির আদেশ কার্যকর হওয়া জঙ্গিনেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই ও তাঁর ক্যাডারদের আগমনের ১৪ বছরেও জঙ্গির অপবাদ থেকে মুক্তি পায়নি রাজশাহীর বাগমারার লোকজন। কিছু জঙ্গির অপতৎপরতার কারণে অপবাদ থেকে মুক্তি মিলছে না তাদের।

এ ছাড়া বাংলা ভাই ক্যাডারদের হাতে অপহৃত দুজনের সন্ধান মেলেনি ১৪ বছরেও।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল বাগমারায় বাংলা ভাই ও তাঁর ক্যাডারদের প্রকাশ্য আবির্ভাব ঘটে। ওই দিন তাঁরা বাগমারার পালাশী গ্রামে সশস্ত্র অবস্থায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে ও পরে জবাই করে মেরে ফেলেন নাটোরের সরগতিয়া গ্রামের যুবলীগ কর্মী মনোয়ার হোসেন ওরফে বাবুকে। প্রথমে তাঁরা মুসলিম মুজাহিদীন বাংলাদেশ, এরপর জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ও পরে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামে তাঁদের তৎপরতা চালান।
দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলে জঙ্গিদের প্রকাশ্য কার্যক্রম। এ সময় বাগমারা, দুর্গাপুর, আত্রাই ও রানীনগর এলাকায় তাদের অভিযানে ১৫ জন প্রাণ হারান। নির্যাতনে আহত হন আরও পাঁচ শতাধিক। এর মধ্যে বাগমারায় আটজন নিহত ও তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রানীনগরের বাম দলের নেতা আবদুল কায়ূম ওরফে বাদশা, যুবলীগের কর্মী খেজুর আলী, প্রশান্ত, সুশান্ত, আত্রাইয়ের যুবলীগ কর্মী দীপঙ্কর, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শেখ ফরিদ, বাগমারার আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন আলী, মাহাবুর রহমান, বাসদ নেতা আলী আকবর, সাধারণ যুবক গোলাম রাব্বানী ওরফে মুকুল উল্লেখযোগ্য। তাঁদের গাছ ও বাঁশের তৈরি চরকির সঙ্গে উল্টো করে ঝুলিয়ে পিটিয়ে আহত করে জঙ্গিরা। তাঁদের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় পেরেক। প্রকাশ্যে চলে তাদের নৃশংসতা।
এ ছাড়া বাগমারার আবু তালেব ওরফে ভুট্টা ও শহিদুল ইসলামকে ওই সময়ে বাংলা ভাই এবং তাঁর লোকজন অপহরণ করে নিয়ে যান। এখন পর্যন্ত তাঁদের হদিস মেলেনি। শহিদুলের বাবা মোসলেম আলী ও আবু তালেবের ভাই আমজাদ হোসেন বলেন, বাংলা ভাই বাহিনী ধরে নিয়ে গেলেও এখনো তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে ওই সময়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বাংলা ভাই বাহিনীর হাতে নির্যাতিত ব্যক্তিরা এখনো ক্ষত নিয়ে বেড়াচ্ছেন। হামিরকুৎসা ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, এখনো তিনি পঙ্গু। তাঁকে জঙ্গিরা পিটিয়ে ও পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতন করে। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জীবন যাপন করছেন। জঙ্গিদের ভয়ে তিনি মামলাও করতে পারেননি। একই অবস্থা উপজেলার গোয়ালকান্দির মির্জাপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্য আবেদ আলী মোল্লারও। তাঁদের মতো আরও ২০-২৫ জন নির্যাতিত ব্যক্তি একই কথা বলেছেন।
এদিকে বাংলা ভাই বাহিনীর আবির্ভাবের ১৪ বছরেও জঙ্গির অপবাদ থেকে মুক্তি মিলছে না বাগমারাবাসীর। জঙ্গির শেকড় এখনো রয়েছে উপজেলায়। বাংলা ভাইয়ের অভিযানকালে এলাকার অনেক মানুষ জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ে পুলিশ জেএমজেবি ও জেএমবির ৩০০ জনের তালিকা তৈরি করে। বিভিন্ন সময়ে তারা জঙ্গিসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। 
পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাগমারায় এখনো ভয়ংকর জঙ্গি রয়েছে। তাদের কারণে অপবাদ ঘুচছে না। 
উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিজন কুমার সরকার বলেন, ‘বাংলা ভাই এবং তাঁর বাহিনী এলাকায় যে জঙ্গির বীজ বপন করে গেছেন, তার খেসারত এখনো বাগমারাবাসীকে দিতে হচ্ছে। এর কলঙ্ক থেকেও মুক্তি মিলছে না। তবে বাগমারার মানুষ শান্তিপ্রিয়। আমরা এসব কলঙ্ক থেকে মুক্তি চাই।’
বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, বর্তমানে এলাকায় জঙ্গিদের প্রকাশ্য বা গোপনে কোনো তৎপরতা নেই। যেসব জঙ্গি জামিনে এবং এলাকায় রয়েছে, তাদের প্রতি নজরদারি রয়েছে। তবে ওই সময়ে নিখোঁজ আবু তালেব ও শহিদুল ইসলাম সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।




photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন