আজ সোমবার | ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
photo

সকল মানুষের দল আওয়ামীলীগ : মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

     বুধবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৮

Photo
লেখক : মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সাবেক এমপি

সকল মানুষের দল আওয়ামীলীগ -একথাটি শুনার সাথে সাথেই পাল্টা অনেক প্রশ্ন চলে আসবে এবং নতুন করে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেবে। অনেকেই বলবেন যদি এটাই সত্য হয় তবে তো দেশে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন হতো না কিংবা বর্তমানে ডজন ডজন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব থাকতো না।

তা হলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসবে কেন আমি এমনটি বললাম। নিশ্চয়ই যে কেউ আমার নিকট দাবী করতে পারেন আমার বক্তব্যের সঠিক উত্তর কিংবা যথাযথ ব্যাখ্যা। নিচে আমি এবিষয়ে আমার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ঘোষনাপত্রে আওয়ামীলীগের জন্ম ও পটভূমি সম্পর্কে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক ও অবৈজ্ঞানিক দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি পৃথক ভূখন্ড বাংলা ভাষা  বিদ্বেষী। অচিরেই তার বহি:প্রকাশ ঘটে রাষ্ট্রভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রশ্নে। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকৃতি জানিয়ে উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছাত্র সমাজ,সংস্কৃতিসেবী,বুদ্ধিজীবি ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভ। এই পটভূমিতে মুসলিমলীগের দুঃশাসন ও প্রচন্ড দমননীতির মুখে এক প্রবল বৈরী পরিবেশে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে এম দাস লেনের ‘ রোজ গার্ডেনে’ এক কর্মী সম্মেলনের ভেতর দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামীলীগ।
তার মনে হচ্ছে বাংলাদেশের জনগনের সামাজিক,সাংকৃতিক,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের প্রয়োজনে জনগনের ভেতর থেকে উথিত একটি প্রগতিশীল সংগ্রামী দল হচ্ছে আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ হচ্ছে সমাজের অগ্রসর চিন্তা,চেতনা আদর্শ,লক্ষ্য ও কর্মসূচী বাস্তবায়নের অগ্রবাহিনী।
আওয়ামীলীগের শক্তির উৎস জনগন। শক্তির উৎস সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। এটা সকলে স্বীকার করবেন যে,তদানিন্তন পাকিস্তানের,পাকিস্তান জন্মের এক বছর নয় মাস নয় দিনের মাথায় সকল বাঙালীর পক্ষ থেকে একমাত্র আওয়ামীলীগ হচ্ছে বিরোধী মূল রাজনৈতিক দল। তার মানে হচ্ছে তখনকার সময়ের সকল বাঙালীর একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামীলীগ।
আওয়ামীলীগের ঘোষনাপত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ৫১ পৃষ্টায় ঘোষনা ও কর্মসূচীর ২ নং অনুচ্ছেদ-এ বলা হয়েছে,“মহান মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে অর্জিত সংবিধানের চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি (পঞ্চদশ সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে পুন:প্রতিষ্ঠিত) বাঙালি জাতীয়তাবাদ ,গণতন্ত্র,ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সকল ধর্ম,বর্ণ ও নৃ-গোষ্ঠির সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ ও অসম্প্রদায়িক রাজনীতি,সাম্য ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অভীষ্ঠ লক্ষ্য।”
আওয়ামীলীগের অভিষ্ঠ লক্ষ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এখানে সকল সম্প্রদায়, নারী,পুরুষ,কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ সমাজের ধনিক শ্রেণি ও বিত্তবানসহ সকল মানুষের নিশ্চিয়তা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামীলীগ বিশেষ কোন গোষ্ঠি বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়। আওয়ামীলীগ সকল মানুষের জন্য।
আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দর্শন :
আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দর্শন উৎসারিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,স্বপ্ন ও আকাঙ্খা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ দেশের মাটি থেকে। এই উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রদর্শিত পথে জনগনের আর্থ-সামাজিক,রাজনৈতিক ও সাংকৃতিক মুক্তি। তাদের জীবনযাত্রার ক্রমাগত মানোন্নয়ন। আওয়ামীলীগ বাংলাদেশকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করে এনে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ সম্পদশালী উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করতে বদ্ধপরিকর। কেবল উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনই নয়,উন্নয়নের সুফল যাতে সকল মানুষ পায় তা নিশ্চিত করবে।। সমাজে বিদ্যমান শ্রেণি ও ধন-বৈষম্য দূর করা,গ্রাম ও শহরের পার্থক্য হ্রাস ধর্ম,বর্ণ,ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি নারী পুরুষসহ সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। সকল অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন এবং বিদ্যমান জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে রূপান্তর করাই হবে আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দর্শনের মূল কথা। অর্থনৈতিক,বিজ্ঞান,সাহিত্য,শিল্পকলা,ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রতিটি শাখার সৃজনশীল বিকাশে দৃশ্যমান অর্জনের ভেতর দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অবদান রাখা এবং বাঙালি জাতির জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ গৌরবের আসন প্রতিষ্ঠাই হবে আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দর্শনের অভিষ্ট লক্ষ্য।

উপরোল্লিখিত উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার আদলে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করার লক্ষ্যে আওয়ামীলীগ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া ও রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত করার অঙ্গিকার নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়। তৃতীয় মেয়াদে ২০১৪ সালে সরকার গঠনের পর দেশের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্তি,বাসস্থান,শিক্ষা,চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদান করে । একই সাথে জনগনের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌছানো,নারীর ক্ষমতায়ন,বাস্তবায়ন,ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছানো,পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোট দশটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেন।
বিশ্বব্যাপী চরম অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজমান থাকা সত্ত্বেও সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ অতিক্রম করেছে। মাথাপিছু আয় ১৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার নেমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২২ ভাগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন “আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে,আশ্রয় পাবে,শিক্ষা পাবে,উন্নত জীবনের অধিকারী হবে এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন”। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্য্র নিরসনের দশটি বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। এই উদ্যোগ সমূহের শতভাগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ ও ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) সাফল্যের পর ২০১৬ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা(এসডিজি) বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে দেশ। জাতিসংঘের ভাষ্য মতে,এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশকে বলা হয় এমডিজির ‘রোল মডেল’। এসডিজি-তে সাফল্য অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এবং ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে।
টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট(এসডিজি) সাফল্য অর্জনের জন্য নিচের ১০টি উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন আছে।
উদ্যোগ-১    একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প।
উদ্যোগ-২    আশ্রায়ন প্রকল্প।
উদ্যোগ-৩    ডিজিটাল বাংলাদেশ।
উদ্যোগ-৪    শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচী।
উদ্যোগ-৫    নারীর ক্ষমতায়ন।
উদ্যোগ-৬    ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ।
উদ্যোগ-৭    কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য।
উদ্যোগ-৮    সামাজিক কর্মসূচী।
উদ্যোগ-৯    বিনিয়োগ বিকাশ।
উদ্যোগ-১০    পরিবেশ সুরক্ষা।
বাংলাদেশের জনগন উল্লেখিত উদ্যোগগুলোর সুফল পেতে শুরু করেছে। তাছাড়া যোগাযোগ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ,ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ,কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ বিকাশে, পরিবেশ সুরক্ষায়, গ্রাম অঞ্চলে আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি,দারিদ্র্য বিমোচন,আত্ম -কর্মসংস্থান ইত্যাদি কর্মসূচী বাস্তবায়নের ফলে দলমত নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হচ্ছে এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।
কর্মসূচী সমূহের সুফল ভোগীরা কেবল আওয়ামীলীগের নয় সকল রাজনৈতিক দলের ও সাধারণ মানুষ । সরকারের গৃহিত এবং বাস্তবায়িত নানা ধরণের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচীর সুফল ভোগ করছে। বর্তমান সরকার যেহেতু আওয়ামীলীগ দলীয় সরকার,সেহেতু সরকার দলের লক্ষ্য,উদ্দেশ্য ও কর্মসূচীর আলোকেই সকল ধরনের প্রকল্প ও কর্মসূচী প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করছে।
সরকারের গৃহিত বিধবা ভাতা,বয়স্ক ভাতা,প্রতিবন্দি ভাতা,১০ টাকা কেজি চাউল,মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ইত্যাদি কর্মসূচীগুলো দেশের সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেই প্রনয়ন করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ কিংবা বিশেষ দলকে লক্ষ্য করে এসব কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়নি। শুধু তাই নয় এতে সুফলও কেবল আওয়ামীলীগের সদস্যরাই ভোগ করছে না। ভোগ  করেছে দেশের আপামর জনসাধারণ। সুতরাং এটা নির্ধিধায় বলা যায় সকল মানুষের দল আওয়ামীলীগ।   

লেখক : মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সভাপতি,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ,কাপাসিয়া উপজেলা শাখা,

সভাপতি
কাপাসিয়া প্রেসক্লাব, কাপাসিয়া,গাজীপুর।




photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন