আজ বৃহস্পতিবার | ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
photo

জীবনে চাকুরী করার বয়সে ২ বার কান্না করেছি- ইঞ্জি এলাহান উদ্দিন

     মঙ্গলবার, ২৯ মে, ২০১৮

Photo
ইঞ্জি. মোঃ এলাহান উদ্দিন

১.
যেদিন আমি প্রথম চাকুরীতে জয়েন করি , সকাল বেলা অফিসে গিয়ে যখন মাকে বললাম, মা আমি অফিসে । সেইদিন আমার মা অত্যন্ত অনেক অনেক খুশী হল , যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না , তখন আমার মা অনেক খুশি হয়ে বলল , আমার ছেলে চাকুরী করছে ।

আর আমি তখন মনে মনে ভাবলাম যেদিন বেতনের টাকা পাব সেই দিন টাকা দিয়ে মাকে একটা শাড়ি কিনে দিব । কিন্তু শাড়ি কেনা আর হল না । কথা ছিল ২ মাস ইর্ন্টারনির পর আমার স্যালারী ধরবে। কিন্তু সেই কোম্পানিতে ৪ মাস হল, ফাউ খাটায় নিচ্ছে , কোন স্যালারিই খোজ খবরেই নেই । স্যালারীর কথা বললে ডিরেক্ট্রর সাত পাঁচ ওল্টা-পাল্টা বুঝায়, আমার সঙ্গে রাগ দেখায় । বাধ্য হয়ে ডিরেক্টেরের সাথে রাগারাগি করে জব ছেড়ে দিলাম । সেই দিন কান্না করতে করতে বাসায় আসি । সেইদিন আব্বাকে মন খারাপ করে এই কথা জানালাম,
আব্বা বলল এমন কোম্পানিতে জব করার দরকার নেই ,তোমাক কি আমি টাকা দেই না ? টাকার সমস্যা আছে ?
আমি বললাম না ।
কিন্তু মাকে যা দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তা দিতে পারলাম না । আফসোস রয়ে গেল । কিন্তু সেই কোম্পানিটি বেশীদিন টিকে থাকতে পারে নাই ।
এরপর নিজের আইটি ফার্মের প্রজেক্ট নেয়া শুরু করলাম । ডোমেইন হোস্টিং প্রতি মাসে ভালই বিক্রি হত । মাকে যা দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তা দিতে আর সমস্যা হয় নাই।
২.
২০১৫ এ ডিসেম্বর থেকেই ব্যবসার পাশাপাশি আবার চাকুরী করছি আহছানিয়া মিশনের সফটওয়্যার কোম্পানি আহছানিয়া ই-সল্যুশনে । সবকিছু ভালই চলছে ।
২০১৭ সাল । ভাবছি নতুন বছরে নতুন কিছু করব । তাই জাপানের জ্যাকস আইটি থেকে ডাক আসে। ব্যবসার দায়িত্ত মেজ-ভাইকে বুঝায় দিলাম। ২-৩ বার ইন্টার-ভিউ দিয়ে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দেই । কোম্পানির ম্যানেজার ছিল গার্মেন্টস ও জাপানি ভাষায় দক্ষ । একসাথে ৪-৫ জন নিয়ে শুরু হল জ্যাকস আইটির যাত্রা । আমাদের কাগজ পত্র সবার নিল ,কিন্তু তারা এপয়েন্টমেন্ট লেটার দিল না ।প্রতিদিন জাপানি ভাষা শেখায় । আর বড় বড় স্বপ্ন দেখায় , জাপানে যেতে হবে । কিন্তু তারা জব সার্কুলারে ওয়েব ডেভেলপার সার্কুলার দিয়ে আমাদের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে নিয়োগ দেয় এপয়েন্টমেন্ট লেটার ছাড়াই । জাপানের ব্রাঞ্চ অফিস বনানীতে । জাপান থেকে প্রজেক্টের কাজ দেয়া শুরু করল। জাপানের ভাষা বুঝি না । ট্রান্সলেট করে বুঝি । জাপান থেকে আমার ভাগে আসল আন্ডয়েড আপ্পসের কাজ , আমি ওয়েব ডেভেল্পার , কিভাবে আমি আন্ডয়েড অ্যাপসের কাজ পারব ? প্রথমে ওনারা বলল এই কোম্পানী কেউ কিছু না পারলেউ শিখায় নিবে , স্যালারী দিতে সমস্যা হবে না এই সেই কত কিছু । যাইহোক আমিই প্রজেক্ট পরিবর্তন করে ওয়েবের কাজ নিয়ে অর্ধেক করলাম ১৩ দিনে ।একেক জনের প্রজেক্ট একেকটা যে যেই বিষয়ে দক্ষ, সে পায় অন্য প্রজেক্ট ,জাপান থেকে রির্পোট খারাপ পাঠালো । আর প্রতিনিয়ত ম্যানেজার খারাপ ব্যবহার করেন,কিন্তু ওনি তখন আইটির কোন কিছু বুঝে না ।
১৪ দিনের মাথায় আমি ৯ টার অফিস ৯ টা ৫ মিনিটে গেলাম , আমার সাথে এমন বাজে ব্যবহার করল , যা নিজের জন্মদাতা বাবাও সেই রকম ব্যবহার কোন দিন করে নাই । আমি তখন বললাম, আপনার অফিস আপনি নিয়ে থাকেন, দিস ইজ নট গার্মেন্টস , আমরা গার্মেন্টসের কর্মী না, এভাবে ঝারী মারবেন না , আমি কান্না করতে করতে চলে এলাম ।
চাকুরী করতে এসছি তাই বলে কি ,আমাদের গালি-গালাজ ,খারাপ ব্যবহার করবে, এমন চাকরী না করলেউ চলবে।
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে আর আমি হাঁটছি ,এতটা কষ্ট পাইছি যা জীবনে একটা শিক্ষা হয়েছে । হেটেই মহাখালী আসলাম। এসেই হাত-মুখ ধুয়ে আবার নাস্তা খেলাম , বাসায় আসলাম ।
তারপর জাপানে ই-মেইলের মাধ্যমে জানালাম যে , অফিস টাইম ৯ তার অফিস ৯.১৫ পর্যন্ত সময় কিন্তু আমি ৯.০৫ এসেও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করল, আমার ১৫ দিনের স্যালারী দিতে হবে । কিন্তু তারা আর ডাক ও দেয় নাই স্যালারী দেয় নাই । কিছুদিন পর শুনলাম ,বাকী ৩ জনের এক জনের বেতন অর্ধেক দিয়েছে , আর একজনকে হুট করেই বাদ দিয়েছে । হিসেব করে দেখলাম ১৫ দিনে আমার মিনিমাম ২ টা প্রজেক্ট করলে ২০ হাজারের এর মত পাইতাম,অনেক লস হয়ে গেল।
তাই ফিরে এসে আবার আগের অফিসে কাজ শুরু করলাম। আবার ভাইয়ের কাছে আইটি ব্যবসা বুঝায় নিলাম । আবার শুরু হল হোস্টকোডিংয়ের ব্যবসা।
কিছু কিছু কোম্পানী আছে লোক নেয় ,কিছু দিন পর বাদ দেয়, আবার লোক নেয় বাদ দেয় ,এটা তাদের অভ্যাস, কেউ কেউ আবার স্যালারী আটকায় রাখে এই রকম আইটি কোম্পানীর লিস্ট বাংলাদেশে আছে , আমি বড় কোন কিছু হলে এই সমস্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব ।
পরিশেষে বলতে চাই, ব্যবসার মত হ্য় না , কিন্তু এতে ঝুকি অনেক বেশী। জীবনে কোন কিছু করতে হলে ঝুকি নিতে হবে ,তাহলে সাফল্য আসবে ।
আমি বার বার অনেক কাজে হেরেছি ,আবার অনেক কিছু অল্প চেয়েও তা পেয়েছি । যারা আমার ক্ষতি করেছে তাদের কে কিছু করি নাই ,আমার চোখের দেখা, বরং তারও অনেকে ক্ষতি হয়েছে ।
এখন আমি আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছি , আমার ব্যবসা , চাকুরী অনেক ভাল চলছে , এর পাশাপাশি মাঝে মাঝে নাটক ,সিনেমায় টুক-টাক অ্যাক্টিং করেছি ও রাজনীতিতে জি এম কাদের স্যার আমাকে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দিয়েছেন ।
সবাই ভাল থাকুন । আপনাদের সবার জন্য দোয়া রইল ।




photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন