আজ শুক্রবার | ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ || ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন
photo

আবারও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হলো বাংলাদেশ

     শনিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৮

Photo
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল

চ্যানেল ডেস্ক: কয়েকটি সংগঠনের আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল-ইউএনএইচআরসিতে আরও ১৬টি সদস্য দেশের সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ । শুক্রবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সরাসরি ও গোপন ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ১৭৮ ভোট পেয়ে ২০১৯-২০২১ মেয়াদের জন্য সদস্য নির্বাচিত হয় বলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে প্রেরিত বার্তায় জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যরা গোপন ব্যালটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। কাউন্সিলে নির্বাচিত হতে প্রতিটি সদস্য দেশের কমপক্ষে ৯৭টি ভোট প্রয়োজন। এশিয়া-প্যাসিফিক ক্যাটাগরিতে ভারত, বাহরাইন, ফিজি ও ফিলিপাইনের পাশাপাশি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৩ ভোটের মধ্যে ১৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন মেয়াদের দায়িত্ব নেবে ঢাকা।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালের মার্চে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মূলনীতির আলোকে পরিচালিত এই কাউন্সিলে সদস্য হওয়ার জন্য প্রতিটি অঞ্চলে সমানভাবে সদস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে আফ্রিকা ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য ১৩টি করে আসন বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া ইউরোপের দেশগুলোর জন্য ৬টি, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ৮টি এবং পশ্চিম ইউরোপীয় ও অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৭টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকেই সদস্য হতে ইচ্ছুক দেশগুলো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের প্রার্থিতা দাখিল করে।

উল্লেখ্য, ইউএনএইচআরসি এর ২০১৯-২১ সালের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হতে জাতিসংঘের সদস্যভূক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। এর আগে বাংলাদেশ ২০০৭-০৯, ২০১০-১২ এবং ২০১৫-১৭ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় প্রতিবছরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার বছরেই পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপে নির্বাচন হয়েছিল। সম্প্রতি এই কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হয়েছে, এই কাউন্সিলের সদস্য দেশগুলোর শাসকদের মানবাধিকার রেকর্ড দুর্বল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও অভিযোগ করেছেন, সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে আঁতাত করছে। এখানে কোনও নিরপেক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া নেই। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের পদক্ষেপের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কাউন্সিলের সমালোচনায় মেতেছে।

বাংলাদেশকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত করায় সদস্য দেশগুলোকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা।




photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন