আজ সোমবার | ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
photo

দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর হতে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চল

     মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৮

Photo
সমগ্র দেশের সাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চল

স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত দেশের দক্ষিণাঞ্চল। উপকূল তীরবর্তী হওয়ায় প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয় এখানকার মানুষদের।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙন দক্ষিণের মানুষদের নিত্য দিনের সঙ্গী হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। এজন্য বারবার পিছিয়ে পড়তো দক্ষিণের অর্থনৈতিক খাত। এই অর্থনৈতিক খাত থেকে পিছিয়ে পড়াতে অনেকটা অবহেলিত অঞ্চল বলে মনে করা হতো দেশের এই দক্ষিণাঞ্চলকে। কিন্তু এই অবহেলিত অঞ্চল মনে করা এখন অতীত। সমগ্র দেশের সাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের এই দক্ষিণাঞ্চল। স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। যেই সেতু শুধুমাত্র মানুষের মুখে কল্পকথার কোনো উদ্দীপকের মতো প্রচলিত ছিল সেই কল্পকথা আজ বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে ততো দৃশ্যমান হচ্ছে স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু। এই পদ্মা সেতু নির্মাণে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের।

বর্তমান সরকার দক্ষিণের উন্নতির জন্য এর প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। ভোলাতে সম্প্রতি পাওয়া গেছে গ্যাসের খনি। এই গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে দেশের পরবর্তী গ্যাস ক্ষেত্র ভোলাতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বরিশালের কিছু জায়গায় গ্যাসের সংকট। ভোলার এই গ্যাসকে বরিশালে সংযোগ দেয়ার মাধ্যমে এই সংকট দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চল থেকে সড়ক, নৌ আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ায় বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান সেখানে গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সব দিকের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রেটার বরিশাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্যুরিস্ট হাব, কমার্শিয়াল হাব এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবে পরিণত হবে বলে জানান জাইকার একটি প্রকল্পের পরামর্শক।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দক্ষিণের শিল্প সম্প্রসারণের জন্য সচেষ্ট রয়েছেন। দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠনের মালিকগণ দক্ষিণে তাদের উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বেশ আগ্রহী। শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ফলে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরী হচ্ছে। পায়রাবন্দরও অবস্থিত এই দক্ষিণে। দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর এটি।পর্যটন খাত থেকেও পিছিয়ে নেই দেশের দক্ষিণ অঞ্চল। এখানে রয়েছে সাগরকন্যা নাম খ্যাত সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। যেখানে দাঁড়িয়ে পর্যটকরা সূর্যোদয় সূর্যস্ত দুটোই উপভোগ করতে পারে। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত সূর্যোদয় উপভোগ করা যায় পৃথিবীর মাত্র দুটি স্থানে। এর মধ্যে একটি হলো কুয়াকাটা আর অন্যটি জাপান। কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত সাইট ট্যুরও এখন সময়ের ব্যাপার।

কুয়াকাটা মাস্টারপ্ল্যানে রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট ভেন্যু, দুটি স্টল এয়ারপোর্ট, মেরিন ড্রাইভসহ অনেক কিছু। অচিরেই কুয়াকাটা হচ্ছে দেশের অন্যতম ট্যুরিস্ট হাব। তবে ভাঙ্গন রোধ করার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করা প্রয়োজন। পায়রা বন্দর, পদ্মা সেতু , লেবুখালী সেতু এবং সেনানিবাস, কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র , ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা-পায়রা ফোর লেন রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বদলে যাবে দক্ষিণের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের সভায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।দক্ষিণের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষি-অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষির বৈচিত্র্যকরণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রয়োগ, নদীভাঙন রোধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণপানির প্রভাব মোকাবিলা, স্বল্প সুদে কৃষিঋণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য প্রচুর অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।

কৃষি ছাড়াও বর্তমানে শিল্পায়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এই দক্ষিণে। পূর্বে ভোলার গ্যাস, পশ্চিমে মোংলা বন্দর, উত্তরে পদ্মা সেতু আর দক্ষিণে পায়রা বন্দর-কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এই পাঁচের সম্মিলনে মাত্র কয়েক বছরেই বদলে যাচ্ছে দেশ দক্ষিণাঞ্চল।দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বেশকিছু মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চল রূপান্তরিত হবে এশিয়ার সর্বাপেক্ষা উন্নত দেশ সিঙ্গাপুরের মতো। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বিশ্বে সর্বাধিক এগিয়ে আছে সিঙ্গাপুর। দেশের দক্ষিণাঞ্চল এগিয়ে চলছে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর হওয়ার লক্ষ্যে এবং যার মাধ্যমে অবদান রাখবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।




photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন