আজ সোমবার | ১৫ অক্টোবর, ২০১৮ || ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
photo

মেসির জন্য আমরা শিরোপাটা জিততে চাই

     বুধবার, ৩০ মে, ২০১৮

Photo
হাভিয়ের মাচেরানো

বাজতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের বাঁশি। শুরু হয়ে গেছে ক্ষণগণনা।

বিশ্বকাপ নিয়ে আজ হাভিয়ের মাচেরানোর সাক্ষাৎকার----

বার্সেলোনা থেকে চীনের হেবেই ফরচুন-যাত্রাটাই বলে, হাভিয়ের মাচেরানোর পেশাদারি ক্যারিয়ার শেষের পথে। বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন আর্জেন্টাইন এই লড়াকু ফুটবলার। দুর্ভাগাও, আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে পাঁচটা ফাইনালে উঠেও পাঁচবারই ছিলেন হেরে যাওয়া দলে। রাশিয়ায় আরেকবার নিজের সবটুকু ঢেলে দিতে তৈরি সাহসী এই ডিফেন্ডার-
প্রশ্ন: এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন যে রাশিয়া বিশ্বকাপই হবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আপনার শেষ টুর্নামেন্ট। ঘোষণাটা এত তাড়াতাড়ি কেন দিয়েছেন?
হাভিয়ের মাচেরানো: সত্যি বলতে, আমার মনে হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপটাই আমার ও আমাদের সবার জন্য সর্বোচ্চ অর্জনে (বিশ্বকাপ) ভাসার শেষ সুযোগ। আমার বয়স ৩৪, এরই মধ্যে বার্সেলোনা ছেড়ে দিয়েছি। ২০০৩ সাল থেকেই তো জাতীয় দলে খেলছি। পনেরোটি বছরে জাদুকরী অনেক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি, যদিও কোনো শিরোপা জেতা হয়নি। আমার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারও শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। এ জন্যই তাড়াতাড়ি ঘোষণাটা দিয়েছি।
প্রশ্ন: আরও নির্দিষ্ট করে বললে আপনি ইকুয়েডরের বিপক্ষে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচের পরই ঘোষণাটা দিয়েছেন...
মাচেরানো: হ্যাঁ, বাছাইপর্বটা অনেক কঠিন ছিল। বিশ্বকাপে উঠতে শেষ ম্যাচটা আমাদের জিততেই হতো, আর আমরা প্রতিপক্ষের মাঠে ওই ম্যাচটিতে প্রথম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ি। তারপর লিও (মেসি) ওর জাদু দেখাল, হ্যাটট্রিক করল, আমরাও রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা পেলাম। যদি সেটা করতে না পারতাম, কে জানে, হয়তো সেদিনই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে নিতাম। কিন্তু সর্বোচ্চ সাফল্যটা অর্জনের আরেকটি সুযোগ আমরা পাচ্ছি। আরেকবার নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দিতে আমরা মুখিয়ে আছি।

Untitled-3ll

প্রশ্ন: ব্রাজিলে চার বছর আগে এত কাছে গিয়েও শূন্য হাতে ফিরতে হলো...
মাচেরানো: ওটা সত্যিই অনেক বেদনার ছিল। ১১৩ মিনিটে গিয়ে একটা বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে যাওয়া! এই ব্যথাটা সব সময়ই থাকবে। নিজেদের সবটুকু দিয়েই আমরা চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ট্রফিটা জিততে পারলাম না।
প্রশ্ন: শুধু বিশ্বকাপ ফাইনালই নয়, এরপরের দুই বছরে আপনারা কোপা আমেরিকার দুটি ফাইনালেও হেরেছেন...
মাচেরানো: অসহনীয়। আমি পাঁচটা ফাইনালে খেলেছি, এর সব কটিতেই আমরা হেরেছি। খুবই বেদনার স্মৃতি। ১৯৯৩ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কোনো শিরোপা জেতেনি। আমাদের মতো একটা ফুটবলপাগল দেশের জন্য ২৫ বছর ধরে শিরোপা না জিতে থাকা খুব বেশিই লম্বা সময়। রানার্সআপদের কেউ মনে রাখে না। ওই ফাইনালগুলোর হারের পেছনে কারণ কী, সেটা আমি জানি না। অন্তত একটা হলেও আমাদের জেতা খুব দরকার ছিল।
প্রশ্ন: লিওনেল মেসি বলছেন যে এই বিশ্বকাপটাই আর্জেন্টিনার এই প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য কিছু জেতার শেষ সুযোগ...
মাচেরানো: আমাদের সবারই ভাবনা এটা। দেশের পাশাপাশি লিওর জন্যও আমরা শিরোপাটা জিততে চাই। ও অসাধারণ একজন ফুটবলার যে অন্য সব শিরোপাই জিতেছে, শুধু জাতীয় দল ছাড়া। শতবর্ষীয় কোপার ফাইনালে হারের পর ওর দুঃখটা খুব বেশি করেই বোঝা যাচ্ছিল। তবে সেসব অতীত। রাশিয়াতে নতুন একটা অভিযান শুরু করতে চাই, শেষবারে কিছু জেতার আশা নিয়ে।
প্রশ্ন: আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে একই গ্রুপে আর্জেন্টিনা। তিন শক্ত প্রতিপক্ষ...
মাচেরানো: বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই আপনার সেরাদের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি থাকতে হবে। আইসল্যান্ড কতটা ভালো দল, সেটা ওরা ২০১৬ ইউরোতেই দেখিয়েছে। ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়া কোনো নির্দিষ্ট দিনে আপনাকে ভোগাতে পারে। তিনটি ভিন্ন ঘরানার ফুটবল খেলা দলের সঙ্গে আমাদের খেলতে হবে। গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়াও তাই অনেক কঠিন হবে। তবে আমরা আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রশ্ন: নতুন কোচ হোর্হে সাম্পাওলির অধীনে নিজের প্রিয় ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পজিশন ছেড়ে আপনাকে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলতে বলা হয়েছে।
মাচেরানো: দেখুন, আমি সব সময়ই চেয়েছি কোচ আমার কাছে যা চান, সেটি ঠিকভাবে করতে। এটা সেই লিভারপুলে থাকার দিনগুলো থেকেই, যখন কোচ আমাকে স্টিভেন জেরার্ড ও জাবি আলোনসোর পাশে মিডফিল্ডে খেলতে বলেছিলেন। তারপর বার্সেলোনায় এলাম। সেখানে মিডফিল্ডের ত্রয়ী অনন্য, যে কারণে আরও বেশি খেলতে হঠাৎই আমাকে সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলতে হলো। সাড়ে সাত বছর সেখানে সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলেছি। যদি কোচ মনে করেন ডিফেন্ডার হিসেবে খেললেই আমার সামর্থ্যটা সবচেয়ে ভালো কাজে লাগবে, তাহলে আমি সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে আপনাদের দ্বিতীয় ম্যাচে বার্সেলোনা সতীর্থ ইভান রাকিতিচ আপনার বিপক্ষে খেলবেন...
মাচেরানো: বার্সাতে আমাদের সম্পর্কটা দারুণ ছিল। আমি নিশ্চিত আমরা একে অন্যকে আলিঙ্গন করব। তবে ম্যাচের সময় ও আমাদের হারাতে সম্ভাব্য সবকিছুই করবে। শুধু ইভানই নয়, ওর পাশে লুকাকে (মডরিচ) নিয়ে ওরা খুব শক্ত একটা দল। মারিও-ও (মানজুকিচ) খুব ভয়ংকর। আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
প্রশ্ন: আর্জেন্টিনা বড় শিরোপা জিততে না পারার দুর্ভাগ্যটা কাটাতে পারবে?
মাচেরানো: পারা উচিত। বরং এভাবে বলি, আমাদের পারতেই হবে! আর্জেন্টাইন ফুটবল ভালোবাসে যাঁরা, তাঁদের জন্য এটা দরকার। তাঁদের খুশি করতে হবে আমাদের। কত লম্বা সময় ধরে তাঁরা ভুগছেন। আমরা খেলোয়াড়েরাও অনেক ভুগেছি।

এক নজরে

পুরো নাম: হাভিয়ের আলেহান্দ্রো মাচেরানো

জন্ম: ৮ জুন ১৯৮৪

জন্মস্থান: সান লরেঞ্জো, আর্জেন্টিনা

পজিশন: ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার/ডিফেন্ডার

ক্লাব: হেবেই চায়না ফরচুন

পেশাদার ফুটবলে শুরু: ২০০৩

আর্জেন্টিনা দলে অভিষেক: ২০০৩

আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যাচ: ১৪২

গোল:

অর্জন

বিশ্বকাপ রানার্সআপ: ২০১৪

কোপা আমেরিকা রানার্সআপ: ২০০৪, ২০০৭, ২০১৫, ২০১৬

অলিম্পিক সোনা: ২০০৪, ২০০৮

 



photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন