আজ বৃহস্পতিবার | ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ || ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
photo

দেশের গ্যাস খাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

     রবিবার, ০৩ জুন, ২০১৮

Photo
গ্যাস প্ল্যান্ট

স্টাফ রিপোর্টার: ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে, অন্যদিকে দেশে প্রতিনিয়ত গ্যাস, বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর প্রায় সবগুলোতেই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংগতি মাথায় রেখে গ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী যথাযথ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই মূল চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ সরকারের জন্য।

একসময় বাংলাদেশে গ্যাসের মজুদ ছিল ১৭ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট। শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে ২০০৫ সাল থেকে দেশে প্রতিবছর যে হারে উৎপাদন কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে উক্ত মজুদের অর্ধেকেরও বেশী ব্যবহৃত হয়েছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এ অবস্থায় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদনের পাশাপাশি গ্যাস সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে বর্তমান সরকার।

বর্তমানে বাংলাদেশের ২৭টি গ্যাস ফিল্ডে মজুদকৃত গ্যাসের পরিমান প্রায় ৩০ টিসিএফ। বাংলাদেশের জন্য আনন্দের সংবাদ হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে এই ২৭ টি গ্যাস ক্ষেত্র ছাড়াও আরো ২ টি নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। বাংলাদেশের পাবনাতে ২৮তম এবং সর্বশেষ ভোলাতে ২৯তম গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়েছে।

২০০৯ সালে দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের পরিমান ছিল ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাস উত্তোলনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্টদের একান্ত প্রচেষ্টায় বর্তমানে প্রতিদিন ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। গ্যাস খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হল, মহেশখালী ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল: প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির লক্ষ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং দ্বিতীয় ধাপে আরো ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে।

এই ধরণের গ্যাস আমদানি বাংলাদেশের গ্যাসের সরবরাহ ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হওয়ার ফলে সেখান থেকে আড়াই হাজার কলকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি উক্ত গ্যাস সংযোগের ফলে প্রায় ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণ: দেশি ও বিদেশী কোম্পানির সহায়তায় কক্সবাজারের মহেশখালীর অর্থনৈতিক অঞ্চল -৩ এ তরলায়িত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) টার্মিনাল তৈরী করা হচ্ছে যা থেকে ২০২১ সালের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। এর ফলে উক্ত টার্মিনালে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং টার্মিনাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ৪০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। এরকম ৫০০০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এলপিজি টার্মিনাল মংলা ও নারায়ণগঞ্জেও তৈরীর কার্যক্রম চলমান রেখেছে সরকার।

গ্যাস অনুসন্ধান: সরকার জ্বালানি নিরাপত্তায় গ্যাস উত্তোলন এবং গভীর সমুদ্র হতে দেশের অভ্যন্তরে সরাসরি ও দ্রুত জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রেখেছে সরকার। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহেশখালীতে ২টি এবং ভোলায় ২টি গ্যাস ফিল্ডের সিসমিক সার্ভে, গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি বিষয়ক পরামর্শ ও গবেষণা ব্যবসায়ী কোম্পানি উড ম্যাকেঞ্জি ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০২০, ২০২৫ ও ২০৩০ সালে প্রতিবছর বাংলাদেশের এলএনজির চাহিদার পরিমাণ হবে ৪ মিলিয়ন টন, ৮ মিলিয়ন টন ও ১১ মিলিয়ন টন। সংশ্লিষ্টদের মতে গ্যাস খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের শুরু করা কার্যক্রমগুলো বজায় থাকলে নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যতেও গ্যাসের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।




photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন