আজ মঙ্গলবার | ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ || ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ || সময় ১১:০২ পূর্বাহ্ন
photo

কাব্যময় স্পর্শে আলোকিত : হৃদয়ে শ্রাবন ধারা

     বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮

Photo
শ্রাবন ধারা

সারারাত বৃষ্টি ছিল, বৃষ্টিস্নাত সকালের স্নিগ্ধতায় হালকা হিমশীতল হাওয়ায় বারান্দায় দাড়িয়ে পাখির কিচির মিচির শব্দে মন আটকে গেল কিন্তু এভাবে দাড়িয়ে থাকলে তো হবেনা, সকালের নাস্তা রেডি করতে হবে, জামিল সময় মত নাস্তার টেবিলে নাস্তা না পেলে রীতিমত হৈচৈ বাধিয়ে দিবে

না খেয়েই চলে যাবেতাই তারাহুড়া করে রুটির সাথে সবজি আর ডিম ভেজে টেবিলে দিতে দিতে জামিল কে বাজার করার কথাটা বলল লিজাজামিল বাজারের টাকা টেবিলের পাশে রেখে উঠে গেলো যাওয়ার সময বলে গেলো আজ একটু আগে চলে আসবে, সাইটে ইন্জিনিয়ার যাবে ওখানে যেতে হবেভোজন রসিক জামিল যাওয়ার সময় বলে গেল, গরুর গোস্ত আর খিচুরী খাবে দুপুরে সাথে যেনো বেগুন ভাজা থাকে দেখতে দেখতে আবার বৃষ্টি চলে এলোকতগুলি কাক বৃষ্টিতে ভিজে ক্লান্ত হয়ে বাড়ির কার্নিসে এসে দাড়িয়েছে,একটু বিশ্রামের আশায় লিজার শরীর কয়দিন যাবত জ্বর জ্বর,তবুও বিশ্রামের সুযোগ নেইজামিলকে কয়েকবার জ্বরের কথা বলতেই বলল,আমি কি ডাক্তার নাকি? ডাক্তারের কাছে গেলেই পারো অন্য সময় পেরাসিটামল জাতীয় কিছু ঔষধ এনে দিয়ে দায়িত্ব মুক্ত হতো ছেলে মেয়ে দুটো কলেজে গেছেবিয়ের পর পরই বড় মেয়ে রাইসার জন্ম হয়, বছর না ঘুরতেই রাজন কোলে আসে ওদের মানুষ করতে অনেক ধকল গেছে,জমক বাচ্চাদের মতো পালতে হয়েছে বৃষ্টি দেখতে দেখতেই সামনের রাস্তায় পানি জমে গেছে রিক্সার যাত্রীরা হুড তুলে পর্দা মুড়ি দিয়ে গন্তব্যে চলছেকারো হাতে ছাতা আবার কেও কাক ভেজা হয়ে তাদের মতো ছুটে যাচ্ছে বাসার কাজের বুয়াটি এক সপ্তাহ ধরে আসছে না তার দেশের বাড়ীতে পানি উঠেছে , সে তার মাকে আনতে গেছে বর্ষার দিনে বৃষ্টি এই আসে এই থামে তাই ছাতা আর বাজারের ব্যগটা হাতে নিয়ে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বেড়িয়ে পড়তে হলো বাজার করা শেষে বাসায় ফিরবে, কিন্তু মাথাটা এমন ভাবে ঘুরছে লিজা সামনে কিছু দেখতে পাচ্ছেনা রাজিব অনেকক্ষন যাবত দেখছিল কিন্তু লিজা কিনা বুঝতি পারছিলো না কলেজে এক সাথে পড়েছে, তা্ই চিনতে সময় লাগেনি কাছে গিয়ে নাম ধরে ডাকতেই চমকে উঠে লিজা তোমার কি শরীর খারাপ, এমন দেখাচ্ছে কেনো? না কেমন জানি জ্বর জ্বর লাগছে, ঠিক আছি আমিরাজিব বলল, তুমি কবিতা আবৃতি করতে তোমার কবিতায় ছিলো মুগ্ধতা আর তুমি তো ছিলে কবিতার চেয়ে সুন্দর তোমার একি অবস্থা ? বয়স হয়ে গেছে এখন কি আগের মতো আছি, লিজা, রাজিবের কাছ থেকে কোনরকমে পাশ কাটিয়ে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে বাসায় চলে আসে রান্না শেষ করে দেখে শরীর ঘেমে একাকার গোসল সেরে বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বর্ষাভেজা প্রকৃতি আর মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখে তার মনে কবিতা এসে হানা দেয়এক সময় একটু আধটু লিখার অব্যস ছিলো তার লিখা আর কবিতা শুনে জামিল তাকে পাগলের মতো ভালো বেসে বিয়ে করে জ্বর কমে গেলেও মাথায় থুব যন্ত্রনা হচ্ছে,সব থেকে বেশি যন্ত্রনা হচ্ছে বুকের ভিতর অনেক স্বপ্ন ছিলো, সেই স্বপ্নের ধারে কাছেও যেতে পারেনিদীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হারিয়ে যায় শুন্যতায় কলিংবেলের শব্দে নিজেকে সামলে নিয়ে দরজা খুলে দিতেই, আমি খুব ব্যস্ত তাড়াতাড়ি টেবিলে খাবার দাও খেয়েই সাইডে যেতে হবে, তা নাহলে লেবার সব বসে থাকবেজামিল চলে গেলে লিজা আর নিজেকে সামলাতে পারেনা,সংসারে সে যেনো একাবই পড়তে চেষ্টা করে, ইচ্ছা করে অব্যক্ত কথাগুলি লিখতে কবিতায়পদ্য কিংবা গদ্যে নিজেকে উজার করে দিতে চায়, কিন্তু এলোমেলো শব্দ গুলো যন্ত্রনায় নীল হয়ে গেছে হৃদয়ে শ্রাবন ধারা বহে অবিরত.........

লেখিকা : জান্নাতুল ফেরদৌসী, রাজনীতিবিদ, কবি ও সাহিত্যিক




photo
বিশেষ বিজ্ঞাপন